দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত পাক নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন বরাবর বারুদের ভাষাতেই হয়েছে। চিন-ভারতের মাঝে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সেই পরিস্থিতি বস্তত ৮৪ সালের পর বিশেষ হয়নি। ওয়েস্টার্ন সেক্টর তথা লাদাখে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘাত গত কয়েক বছরে বহুবার হয়েছে। কারও প্রাণ না গেলেও প্রতিবারই আহত হয়েছেন এ দেশ বা ও দেশের কোনও কয়েকজন সেনা জওয়ান। কিন্তু গুলি কোনও বারই চলেনি।
এ বারও না।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রে বলা হচ্ছে, সোমবার রাতে সীমান্তে টহলদারির সময় দুই দেশের সেনার মধ্যে যে মুখোমুখি সংঘাত হয়েছে তাতে গুলি চলেনি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও দুই জওয়ানের যে মৃত্যু হয়েছে, তা গুলিতে বা বিস্ফোরণের কারণে নয়। লোহার রড, পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বলা যেতে পারে প্রথমে দু’পক্ষের হাতাহাতি হয়। তার পর তা প্রাণঘাতী মারামারির পর্যায়ে পৌঁছয়। চিনা সেনা লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে মারামারি করে।

প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনাও সেই হাতিয়ারই ব্যবহার করেছে বলে খবর। তাতে চিনের পাঁচ জন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে আরও ১১ জন।
সোমবার রাতে ঘটনা যে ভাবে এগিয়েছে
কূটনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী লাদাখে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল স্তরে আলোচনা চলছিল। তাতে স্থির হয়েছিল, গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনা যেখানে তাঁবু গেড়েছে সেখান থেকে তা তুলে নিতে হবে।
কিন্তু সেই শর্ত পালনের আগেই পারস্পরিক কথা কাটাকাটি থেকে ঝামেলা শুরু হয়।

তার পর ক্রমশই তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, পিএলএ সেনারা লোহার রড, পাথর নিয়ে প্রস্তুত হয়েই এসেছিল ঝগড়া বাধাতে। বিতন্ডা পর তারাই প্রথম লোহার রড ও পাথর দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই কর্নেলকে আঘাত করে।
তখনই প্রত্যাঘাত করেন ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। কিন্তু তাঁরাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেননি। দফায় দফায় কয়েক ঘটনা ধরে এই সংঘাত চলতে থাকে। তার পর মাঝরাতের দুই দেশের শীর্ষ সেনা অফিসারদের হস্তক্ষেপে তা থামানো হয়।

ভারতীয় সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, কর্নেল সহ আরও দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে এই সংঘাতে। তবে চিনা বাহিনীরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হতাহত হয়েছে।
পরে আজ সকাল থেকে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য দুই দেশের সেনা কর্তা স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গালওয়ান নদী উপত্যকা অঞ্চলের ১৪ নম্বর টহলদারী পয়েন্টে তা চলছে। তবে সূত্রের মতে, সীমান্তে এখনও প্রবল উত্তেজনা রয়েছে। এতোটাই যে সেখানে আলোচনার জন্য যে পদস্থ সেনা কর্তারা গিয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি।