দ্য ওয়াল ব্যুরো : ল্যাবরেটরি থেকে টেস্ট রেজাল্ট আসা অবধি অপেক্ষা করলে চলবে না। কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে সন্দেহ হয়, তাহলে টেস্ট রেজাল্ট আসার আগেই তাঁর দেহ তুলে দিতে হবে আত্মীয়দের হাতে। বুধবার প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে একথা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে একটি চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, অনেক সময় দেখা গিয়েছে, ল্যাবরেটরি থেকে টেস্ট রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ তাঁর আত্মীয়দের হাতে দেওয়া হয়নি। এমন হওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে ডায়রেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস রাজীব গর্গ বলেন, "কোভিড ১৯ রোগে মৃত্যু হয়েছে সন্দেহ হলেও মৃতদেহ অবিলম্বে আত্মীয়দের হাতে দিতে হবে। টেস্ট রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করা চলবে না।"
চিঠিতে পরে বলা হয়েছে, যদি টেস্ট রেজাল্টে দেখা যায়, করোনাতেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তাহলে শেষকৃত্যের সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বুধবার ভারতে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ৩২ জন। মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও দিল্লি থেকে বড় সংখ্যক সংক্রমণের খবর এসেছে এদিনও। যে দেশগুলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে ভারত রয়েছে চার নম্বরে। ভারতের আগে আছে রাশিয়া। সেখানে সংক্রমণের সংখ্যা ভারতের থেকে মাত্র ৫০ হাজার বেশি। সংক্রমণের সংখ্যার বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল। সেখানে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লক্ষ। সবার আগে আছে আমেরিকা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লক্ষ।
বুধবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫২২ জন। তখন দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৪০। সন্ধ্যায় জানা যায়, মহারাষ্ট্রে নতুন করে ৫৫৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তামিলনাড়ুতে ৩৮৮২ জন এবং দিল্লিতে ২৪৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর পরেই দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।
ভারতে যত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার ৯০ শতাংশ ১০ টি রাজ্যের বাসিন্দা। রাজ্যগুলি হল মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা ও কর্নাটক। দিল্লিতে অবশ্য সংক্রমণের হার আগের তুলনায় কমেছে। এদিন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেন, বিশেষজ্ঞরা রাজধানীতে যে হারে ওই রোগ ছড়াবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক কম সংক্রমণ হয়েছে।
লকডাউনে কিছু কিছু ছাড় দেওয়ার পরেই দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত সোমবার সরকার ঘোষণা করেছে ‘আনলক টু’। তাতে বলা হয়েছে, কেবল কনটেনমেন্ট জোনে কড়াকড়ি এখনও চলবে। সারা দেশে কোথাও স্কুল-কলেজ খোলেনি। মেট্রো পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক উড়ানও চালু হয়নি। যে কোনও বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।