দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক মাসের মধ্যে তৃতীয়বার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। সোমবার বিকালে দিল্লিতে দু'জনের বৈঠক হবে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ঘন ঘন বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করছেন, তাতে নানা মহলে ছড়িয়েছে জল্পনা। একটি সূত্রে খবর, পাঞ্জাবে ভোটের আগে নতুন দল তৈরি করতে পারেন অমরিন্দর। সেই দলের সঙ্গে বিজেপির আসন ভাগাভাগি হতে পারে।
সেপ্টেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সময় ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং মন্তব্য করেছিলেন, তাঁকে অপমান করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতা-নেত্রী রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে বলেন 'অনভিজ্ঞ'। পদত্যাগ করার কিছুদিন পরেই তিনি দিল্লিতে অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। অমরিন্দর সিং-এর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে 'সব পথই খোলা রাখতে চাইছেন' বর্ষীয়ান নেতা।
পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল অমরিন্দর সিং-এর। সেই বিরোধের জেরেই ক্যাপটেনকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়। তার পরে তিনি বলেন, আগামী বছরে পাঞ্জাবে ভোটে জিতে সিধু মুখ্যমন্ত্রী হোন, তিনি চান না। সেজন্য তিনি সিধুর বিরুদ্ধে শক্ত প্রার্থী দেবেন। সিধুকে আটকাতে তিনি যে কোনও ত্যাগ স্বীকারেই রাজি আছেন।
একসময় পাঞ্জাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন।
অক্টোবরের শুরুতে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কড়া সমালোচনা করেন অমরিন্দর সিং। তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব পাঞ্জাবের পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না। সেকথা চাপা দেওয়ার জন্য নেতারা হাস্যকর মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন। সম্প্রতি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড জানায়, ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পাঞ্জাবের কয়েকজন বিধায়ক চিঠি দিয়েছিলেন। অমরিন্দর সিং প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কতজন বিধায়ক চিঠি দিয়েছিলেন? তাঁর দাবি, কংগ্রেসের দুই নেতা হরিশ রাওয়াত ও রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা দু'রকম সংখ্যা বলছেন।
পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "সুরজেওয়ালা বলেছেন, পাঞ্জাবের ৭৯ জন কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ৭৮ জনই আমার পদত্যাগ চেয়েছিলেন। মজার কথা হল, একদিন আগেই হরিশ রাওয়াত বলেন, ৪৩ জন বিধায়ক আমার বিরুদ্ধে চিঠি লিখেছেন।"
ক্যাপটেন বলেন, "এই হল দলের অবস্থা। নেতারা মিথ্যা কথা বলার ব্যাপারেও নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারেন না।" অমরিন্দরের দাবি, চাপের মুখে পড়ে ৪৩ জন বিধায়ক হাইকম্যান্ডের কাছে তাঁর অপসারণ চেয়েছিলেন।