
শেষ আপডেট: 12 March 2024 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক তছরুপের মামলায় ইডির হাত থেকে রেহাই পেতে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন শেখ শাহজাহান। কিন্তু মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ইডির হেফাজতে অন্য এক অভিযুক্তের মারফত শাহজাহানের নাম উঠে এসেছে। বর্তমানে সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। এই প্রেক্ষিতে আগাম জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। শাহজাহানের আবেদন খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।
বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন শেখ শাহজাহান। তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে সন্দেশখালিতে হামলার দিনের ঘটনার বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মাঝে ইডির হাত থেকে রেহাই পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা। উল্লেখ্য, এর আগে বসিরহাটের পিএমএলএ কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ওই নেতা। সেখানেও তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
এদিন শাহজাহানের আইনজীবী সব্যসাচী ব্যানার্জী বলেন, "শাজাহানের বিরুদ্ধ সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই । তাঁকে ইডি অফিসারদের হামলায় মদত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই ইডি কিসের ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেবে? ইডি শাজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে তাঁর বাড়িতেই অত্যাচার চালায় । গত বছর ১২ ডিসেম্বর প্রথম অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে একজনের বয়ানের ভিত্তিতে শাজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে যায় ইডি।
অন্যদিকে, ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, রেশন দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে এক মন্ত্রীর (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) বয়ানে শাজাহানের নাম উঠে আসে। মন্ত্রীর পরিবারকে লেখা চিঠিতে ছিল শাজাহানের নাম। তদন্তের স্বার্থে শাজাহানের বাড়ি গেলে ইডি অফিসারদের মারধর করা হয়। শাজাহানের বিরুদ্ধ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সওয়াল জবাবের পর শেখ শাহজাহানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
শাহজাহানের বিরুদ্ধে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রাক্তন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য গ্রেফতার হওয়ার পরই গত ৫ জানুয়ারি শাহজহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেখানে গিয়ে শাহজাহান অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হন তিন ইডি আধিকারিক।
তারপর থেকেই বাংলার শিরোনামে উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দফায় দফায় অশান্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। শাহজাহান এবং তাঁর শাগরেদদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সন্দেশখালিবাসী। ৫৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর সন্দেশখালির মিনাখাঁ থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় সিআইডি।
ইডি সূত্রে খবর, পুলিশের কাছ থেকে তারা নিজেদের হেফাজতে শাহজাহানকে নিতে চায়। শাহজাহান পুলিশি হেফাজতে থাকলে রেশন দুর্নীতি মামলার তথ্য এবং নথি নষ্ট হতে পারে। ইতিমধ্যে এই আশঙ্কার বিষয়ে হাইকোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই তাঁকে হেফাজতে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইডি। এরই মধ্যে ইডির হাত থেকে রেহাই মিলল না শাহজাহানের। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট।