
শেষ আপডেট: 12 November 2019 18:30
জয়নগরের বিধায়ক সৌম্য রেড্ডি বলেছেন, ‘‘এটা আইনত অপরাধ। পথকুকুরদের উপর নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। কখনও জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে শাবকদের, কখনও অ্যাসিড ছুড়ে ঝলসে দেওয়া হচ্ছে কুকুরদের শরীর। দেশের আইন কি এতটাই দুর্বল যে কোন কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে না।’’
পশুপ্রেমী প্রবীণের কথায়, কুকুরটি বিপদমুক্ত। তবে সে আর ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারবে কি না সন্দেহ। ডাক্তারের কাজ প্রাণ বাঁচানো সে মানুষই হোক বা পশুপাখি। ওই ডাক্তার যা করেছেন ক্ষমার অযোগ্য। তাঁর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।
অগস্টে কলকাতার কালীঘাট এলাকায় এক পথকুকুরকে গুলি করে মারেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে আবার মানবাধিকার কর্মী বলে পরিচয় দিতেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারায় মামলা রুজু হয়। এ ছাড়াও ২৭ আর্মস অ্যাক্ট এবং ১১এল প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলিটি অ্যানিম্যাল অ্যাক্টেও মামলা রুজু হয়।
পশুপ্রেমী সংগঠনের বক্তব্য, পশুদের নিয়ে অনেকেরই অনুভূতি কম। বিশেষ করে পথকুকুরদের বিষয়ে দেখভাল একেবারেই হয় না। এমন ঘটনা সত্যি বেদনাদায়ক। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে কুকুর ছানা পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা রাজ্যে। পথপশুদের জন্য বর্বরতামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার স্বার্থে দেশ তথা রাজ্যের প্রাণী কল্যাণ বোর্ড প্রতিটি রাজ্যে প্রতিনিধি হিসাবে এক জন করে আধিকারিক নিযুক্ত করেছেন।
গোটা দেশে সক্রিয় রয়েছে পশুদের অধিকার সুরক্ষায় নিয়োজিত কিছু সংস্থা। যেমন মানেকা গাঁধী প্রতিষ্ঠিত, ‘পিপল ফর অ্যানিম্যালস,’ যার শতাধিক শাখা রয়েছে। রয়েছে ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস’-এর পশু আশ্রয়স্থল ও পশু হাসপাতাল। ভারতীয় ফৌজদারি আইনের ৪২৮ ও ৪২৯ নম্বর ধারা, এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন (প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট, ১৯৬০) অনুযায়ী কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীকে তার স্থায়ী এলাকা থেকে তাড়ানো, আঘাত করা, ইচ্ছাকৃত ভাবে গাড়ি চাপা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যাতে দু’হাজার টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। তবে আইনের বিধিকে শিকেয় তুলে প্রতিদিনই যে মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে পশুরা তারই নিদর্শন বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা।