দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস অতিমারীর (Coronavirus pandemic) জেরে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মোটের ওপর বন্ধ। জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক হলেও শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে দেশের সব রাজ্য স্কুল (schools) খোলার পথে হাঁটেনি। গত বছর লকডাউন (lockdown) চালু হওয়ার সময় থেকেই কচিকাঁচারা পড়াশোনা করছে অনলাইনে। কয়েকটি রাজ্য অবশ্য ঝুঁকি নিয়ে উঁচু ক্লাসের পড়াশোনা ফের চালু করেছে। কিন্তু বাচ্চাদের কী হবে, তা অনিশ্চিত। তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া ঠিক কবে শুরু হবে, তাও স্পষ্ট নয়। এই প্রেক্ষাপটে এইমস ডিরেক্টর ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া কার্যতঃ স্কুল খোলার পক্ষে সওয়াল করে বললেন, দেশের সব বাচ্চাকে ভ্যাকসিন (vaccine) দিতে দিতে ৯ মাস সময় লেগে যাবে। ততদিন স্কুল বন্ধ থাকতে পারে না।
১৮-র কমবয়সিদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হয়নি এখনও। কিন্তু গুলেরিয়া ফের স্কুল খোলার দাবি তুলে বলেছেন, সামনের বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্কুলগুলি বন্ধ রাখা যাবে না।
তিনি অবশ্য কেরলে, যেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি সংক্রমণ হচ্ছে, স্কুল ফের না খোলার পক্ষেই মত দিয়েছেন, কিন্তু দিল্লির মতো যেখানে যেখানে সংক্রমণ হার কম, সেখানে স্কুলের দরজা ফের খোলার এটাই সেরা সময় বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন---মুকুল রায় হাসপাতালে, স্মৃতিনাশ নিয়ে এসএসকেএমে তৃণমূল নেতা
এপ্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ডঃ গুলেরিয়া বলেছেন, বাচ্চাদের শারীরিক সংস্পর্শ হওয়াটা জরুরি, তাই স্কুল ফের চালু করার পক্ষপাতী আমি। তাছাড়া ওদের অনেকেরই বলতে গেলে, অনলাইনে পড়াশোনার করার সংস্থান নেই।
কী করে বাচ্চাদের স্কুলে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারে ডঃ গুলেরিয়ার পরামর্শ, সব স্কুলকর্মীর ভ্যাকসিনেশন হওয়া উচিত। বাচ্চারা যখন স্কুল চত্বর ঢুকবে বা সেখান থেকে বেরবে, মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময়, অযথা ভিড় যাতে না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একাধিক সংক্রমণের খবর এলে অবশ্যই স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে।
জুনিয়র স্ট্যান্ডার্ড স্তরের পড়ুয়াদেরও স্কুলে হাজির হয়ে ফের ক্লাস শুরুর পক্ষপাতী তিনি। ওদের কোভিড ১৯ এর বিপদ ততটা নয়।
তিনি জানান, হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক আগামী দিনে বাচ্চাদের কোভ্যাক্সিন দেওয়ার বিধিসম্মত সম্মতি চেয়ে আবেদন করবে। এ মাসেই তারা অনুমোদন পেতে পারে। এলাহাবাদের জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি জাইকোভজ-ডি একমাত্র ভ্যাকসিন যা ১৮র কমবয়সিদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।
ডঃ গুলেরিয়া স্কুলে ফের চালুর পক্ষপাতী হলেও এইমসে তাঁর সহকর্মী ডঃ নবনীত উইগ ও মেডান্টার চেয়ারপার্সন ডঃ নরেশ ট্রেহান তার বিরোধী। তাঁদের বক্তব্য, এত তাড়াহুড়ো কীসের?