
শেষ আপডেট: 4 January 2023 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে জল্পনা, দাবি, পাল্টা দাবির মধ্যে রাজস্থানে সরকারে (government) চার বছর পূর্ণ করে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot)। তারপরই ৭১ বছর বয়সি এই কংগ্রেস নেতা ঘোষণা করেছেন, ‘রাজনীতি থেকে রিটায়ারমেন্টের সময় আসেনি এবং অবসর নেওয়ার পর নবীনদের রাজনীতি শেখাব।’ তাঁর বক্তব্য, ‘নবীনদের রাজনীতির প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। রাজনীতি ভাল কাজ। কিছু সহজ কাজ নয়। অনেক কিছু শেখার আছে।’
রাজস্থানের রাজনীতির হাঁড়ির খবর রাখা লোকজনের মতে, গেহলটের এই বক্তব্যের লক্ষ্য দলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সির অন্যতম দাবিদার সচিন পাইলট (Sachin Pilot)। প্রবীণ গেহলটের প্রতিপক্ষ হিসাবে শচীনকেই নবীনদের মুখ হিসাবে তুলে ধরে রাজ্য কংগ্রেসের একাংশ। মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবিতে অনড়।
বলাইবাহুল্য স্বয়ং শচীন এই ব্যাপারে গান্ধী পরিবার থেকে শুরু করে দলের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কাছে বারে বারে দরবার করেছেন। কিন্তু কোনও জায়গা থেকেই তেমন একটা সাড়া পাননি। রাজস্থানে ভারত জোড়ো যাত্রা চলাকালে রাজ্যে কংগ্রেসের দুই নেতার বিরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল দু’জনকেই দলের সম্পদ বলে বর্ণনা করেন।
বিধানসভা ভোটের আর এক বছর বাকি। এই সময় মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবি যেমন উঠেছে, তেমনই গেহলট নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর শিবিরের সাফ কথা, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও শূন্যস্থান পূরণে শচীন পাইলটকে মানবেন না। গেহলট শিবিরের ব্যাখ্যা, শচীনকে নবীন মুখ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টাকে কটাক্ষ করতেই প্রবীণ গেহলট নবীনদের রাজনীতির প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বলেছেন।
গতমাসে ভারত জোড়ো যাত্রার আগে শচীনের নাম করেই মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলে বসেন, যাঁর সঙ্গে দশজন বিধায়কের সমর্থন নেই, তিনি কি না হবেন মুখ্যমন্ত্রী। শচীনকে বিশ্বাসঘাতক বলেও কটাক্ষ করেন গেহলট।
তাঁর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করলেও মুখ্যমন্ত্রী বদলের ব্যাপারে কোনও সাড়াশব্দ নেই কংগ্রেস শিবিরে। হাইকমান্ড রা কা়ডছে না। একটি মহলের দাবি, এ মাসে ভারত জোড়ো যাত্রা শেষ করার পর রাহুল গান্ধী দু’জনকে নিয়ে বসবেন। প্রসঙ্গত, শচীন বর্তমান সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করে এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা পূর্ণ করতে দিল্লি-জয়পুর করে চলেছেন।
গেহলট আজ বলেছেন, আগামী বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জয় নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তিনি বলেন, ২০১৮-সালে রাজস্থানে তিনি সরকার গড়ার পর রাজ্যে নয়টি উপ নির্বাচন হয়েছে। সাতটিতে ভাল মার্জিনে জিতেছে কংগ্রেস। দুটিতে কোনওরকমে পাশ মার্ক পেয়েছে বিজেপি।
গেহলটের দাবি, কৃষিঋণ মকুব, গ্যাসের দামে মাসে ৫০০ টাকা ছাড়-সহ মূল্যবৃদ্ধি আটকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের জন্যই রাজস্থানের মানুষ তাঁর সরকারকে ক্ষমতায় রেখে দেবে। তিনি বলেন, রাজস্থান এমন এক রাজ্য যেখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা নেই।
শিবঠাকুরের শাপেই কি জামিন হল না কেষ্টর, কী পর্যবেক্ষণ আদালতের