রাজস্থানের পরে গুজরাত, সদ্যোজাতর মৃত্যু বাড়ছে হু হু করে! এক মাসে দুই হাসপাতালে মৃত প্রায় ২০০ শিশু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের কোটায় সদ্যোজাতর মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই গুজরাত থেকে এল শিশুমৃত্যুর খবর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গুজরাতের রাজকোট এবং জামনগর মিলিয়ে দুটি সরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যাটা প্রায়
শেষ আপডেট: 5 January 2020 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের কোটায় সদ্যোজাতর মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই গুজরাত থেকে এল শিশুমৃত্যুর খবর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গুজরাতের রাজকোট এবং জামনগর মিলিয়ে দুটি সরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যাটা প্রায় ২০০। সরকারি হাসপাতালে এত বেশি সংখ্যক সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।
গুজরাতের স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দু'মাসে রাজকোটে মারা গেছে ১১১ জন সদ্যোজাত। জামনগরে ডিসেম্বর মাসে মারা গিয়েছে ৬৮ জন সদ্যোজাত এবং নভেম্বর মাসে মারা গিয়েছে ৭১ জন শিশু।
রাজকোট সিভিল হাসপাতালের সুপারিটেনডেন্ট মনীষ মেহতা জানিয়েছেন, রাজকোটের হাসপাতালে মৃত শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই মারা গিয়েছে ওজন কম থাকার কারণে।
এছাড়াও প্রচণ্ড ঠান্ডায় সংক্রমণের কারণেও মারা গিয়েছে বেশ কয়েক জন। হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল অনেকে। শরীরের তাপমাত্রা নেমে গেছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নীচে।
তথ্য বলছে, শুধু জামনগরের সরকারি হাসপাতালেই গত এক বছরে ৬৩৯ জন সদ্যোজাত শিশু মারা গিয়েছে বিভিন্ন কারণে। আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে গত ডিসেম্বরে মারা গেছে ৮৫ জন শিশু। শুধু তাই নয়। গুজরাটের ছোটো উদয়পুর জেলাতেও গত ন'মাসে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা ৬১৪।
অপুষ্টি অন্যতম কারণ হলেও, পরিকাঠামোর অভাবও এত মৃত্যুর পিছনে দায়ী বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। গুজরাতে প্রতিদিন যত সংখ্যক শিশু জন্ম নিচ্ছে, তাদের পরিচর্যা ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাকর্মী এই সমস্ত হাসপাতালগুলিতে নেই। নেই পর্যাপ্ত শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও। এমনকি সন্তানসম্ভবা মায়েদের শরীরস্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিও নেই। নেই স্পেশ্যাল কেয়ার ইউনিট। আড়াই কেজির চেয়ে কম ওজনের সদ্যোজাত শিশুদের চিকিৎসার পরিকাঠামো নেই। ফলে মোদীর রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে প্রতিদিন।

তবে এই বছরই যে এমন হল, তা নয়। ২০১৮ সালেও রাজকোটে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১,২৩৫। ১২২ জন জানুয়ারি মাসে, ফেব্রুয়ারিতে ১০৪ জন, মার্চ মাসে ৮৮ জন, ৭৭ জন এপ্রিল মাসে, ৭৮ জন মে মাসে, ৮৮ জন জুন মাসে, ৮৪ জন জুলাই মাসে, আগস্টে ১০০, সেপ্টেম্বরে ১১৮ জন, অক্টোবরে ১৩১ জন, নভেম্বরে ১৩১ জন ও ১৩৪ জন শিশু ডিসেম্বর মাসে মারা যায়।
গুজরাতের এত শিশুর মৃত্যু নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে সরকার। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুখ ঘুরিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ। দেখুন ভিডিও।
https://twitter.com/ANI/status/1213715499080724481