
শেষ আপডেট: 17 December 2023 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বারাসাত: রাজনীতির অভিধানে একে অপরকে বিঁধে মন্তব্য নতুন নয়। তবে বিরোধী দলের নয়, আজকাল প্রকাশ্যে নিজের দলেরই নেতার উদ্দেশে বিরূপ মন্তব্যও চোখে পড়ে। এবার তেমনই বিস্ফোরক বারাসতের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তাঁর নিশানায় অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। দলীয় বিধায়ককে আক্রমণ করে চিরঞ্জিতের কটাক্ষ “উনি অশোকনগর নিয়ে যতটা না ব্যস্ত, তার থেকে বেশি ব্যস্ত বারাসত নিয়ে। হয়তো এখানে মধু আছে।”
এর আগে বারাসতের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার কোর কমিটির বৈঠকে তিনি দাবি করেন, জেলা সদরে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে খামতি রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল সূত্রের খবর, নারায়ণ নাকি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে বারাসতে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সেখানকার নাগরিকরা নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারছেন না। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার পাল্টা জবাব দেন চিরঞ্জিত।
এদিন বারাসত জেলা গ্রন্থমেলায় এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তখনই নারায়ণ গোস্বামীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি এতদিন ধরে দেখেছি উনি অশোকনগর নিয়ে যতটা না ব্যস্ত, তার থেকে বেশি বারাসত নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। গত বিধানসভা ভোটে উনি এখানে (বারাসতে) দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও কারণে হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে টিকিট দিয়ে দিলেন। আবার হয়ত ২০২৬-এর জন্য চেষ্টা করছেন। কোর কমিটি নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখবে।”
তবে নারায়ণ তো এমনিতেই বিধায়ক। তাহলে বারাসাত নিয়ে তাঁর আলাদা করে কী আগ্রহ রয়েছে? স্বাভাবিকভাবে সাংবাদিকদের তরফে এই প্রশ্ন আসে। যার ব্যাখ্যায় চিরঞ্জিত বলেন, “হয়তো বারাসতে মধু আছে। আমি সেটা জানি না, কারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার রাজনীতি আমি করি না। সেই কারণেও হতে পারে।” যদিও চিরঞ্জিতের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ নারায়ণ। আপাতত তাঁর যা বলার কোর কমিটিতেই বলবেন বলে জানিয়েছেন।