যাদবপুরের কলা বিভাগে এই প্রথম সব পদে এবিভিপির প্রার্থী, ইউনিয়ন রাখতে মরিয়া এসএফআই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল দুর্গে গেরুয়া অনুপ্রবেশ!
ভোটে জেতা, হারা পরের কথা। তবে মনোনয়নেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে রেকর্ড গড়ে ফেলল সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথা এবিভিপি। চারটি পদেই এই প্রথম প্রার্থী দিল ত
শেষ আপডেট: 6 February 2020 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল দুর্গে গেরুয়া অনুপ্রবেশ!
ভোটে জেতা, হারা পরের কথা। তবে মনোনয়নেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে রেকর্ড গড়ে ফেলল সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথা এবিভিপি। চারটি পদেই এই প্রথম প্রার্থী দিল তারা। তিন বছর আগে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল সেখানেও এবিভিপি একটি পদেও প্রার্থী দিতে পারেনি। এবার সাধারণ সম্পাদক, সহ সাধারণ সম্পাদক ডে এবং নাইট ও চেয়ার পার্সন--এই চার পদেই প্রার্থী দিয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের হাতে থাকা আর্টস ফ্যাকাল্টি ধরে রাখতে মরিয়া তারাও।
বার সাতমুখী লড়াই কলা বিভাগে। এসএফআই, এবিভিপি, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পাশাপশি নির্বাচনে লড়ছে আইসা, ডিএসও ডিএসএ ও আরএসএফ-এর মতো ছাত্র সংগঠনও। ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ যাদবপুরে। ফলে তার আগে এখন টানটান উত্তেজনা ক্যাম্পাসে।
বিজেপি যে যাদবপুর ক্যাম্পাসকে টার্গেট করেছে তা বোঝা যাচ্ছিল গত কয়েক মাস ধরেই। এবিভিপির নবীণবরণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে ঘেরাও নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বাম ছাত্রদের ঘেরাও থেকে মন্ত্রীকে উদ্ধার করতে রাত্রিবেলা ছুটতে হয়েছিল রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনকড়কে।
এবারের ভোটে শুধু চারটি পদেই নয়, অনেকগুলি ক্লাস প্রতিনিধি আসনেও প্রার্থী দিয়েছে এবিভিপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ভোটে কী হবে সেটা ছাত্রছাত্রীরা ঠিক করবেন ব্যালটে। কিন্তু বামেরা যাদবপুরকে তাদের খাসতালুক বলে। আমাদের প্যানেল বুঝিয়ে দিচ্ছে এবিভিপি মাথা উঁচু করে যাদবপুরের ক্যাম্পাসে রয়েছে।
রাজনৈতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য হল এই যে, আন্দোলনের প্রশ্নে যে বাম ছাত্র ঐক্য দেখা গিয়েছিল যাদবপুরে, ভোটে তার প্রতিফলন ঘটল না। অর্থাৎ, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বাম ছাত্র ঐক্যের মডেল তৈরি হয়েছিল, যাদবপুরে তা ধাক্কা খেল। এসএফআই কলকাতা জেলা সম্পাদক সমন্বয় রাহা বলেন, "এর জন্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের যে ঐক্য তাতে বিঘ্ন ঘটবে না।" যাদবপুরের প্রাক্তনী সমন্বয় আশাবাদী, তাঁদের কাঁধেই ইউনিয়ন পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন ছাত্রছাত্রীরা।

এমনিতেই কয়েক মাস ধরে সাংগঠনিক ভাবে চাপে এসএফআই। ভিতরকার কোন্দলে ইস্তফা দিয়েছেন ৩১ জন নেতৃত্ব স্থানীয় কর্মী। সেই তালিকায় আছেন বিদায়ী ইউনিয়নের চেয়ার পার্সন সোমাশ্রী চৌধুরীও। ক্ষতয় প্রলেপ দিতে দিনরাত এক করে ক্যাম্পাসে পড়ে থাকছেন নেতারা। ১৪ ফেব্রুয়ারি যাদবপুরের ভোট প্রচারে আসবেন জেএনইউয়ের নেত্রী ঐশী ঘোষও। এখন দেখার কী হয় যাদবপুরের ভোটে। গড় ধরে রাখবে বামেরাই নাকি বেগ দেবে রাম!