দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহাসিক হতে চলেছে ২০২০। একগুচ্ছ মহাকাশযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর। গগনযানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে জোরকদমে। বেছে নেওয়া হয়েছে চার নভশ্চরকে। অন্যদিকে, বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছে ভারতের পরবর্তী চন্দ্রযাত্রা নিয়ে। নতুন বছরেই চাঁদে উড়ে যাবে চন্দ্রযান-৩।
বুধবার ইসরোর কে চেয়ারম্যান কে শিবন ঘোষণা করেছেন, গগনযানের জন্য যে নভশ্চরদের বাছাই পর্ব চলছিল, সেটা শেষ হয়েছে। ‘ম্যানড-মিশন’-এর জন্য ইসরোর অন্দরে তৈরি হয়েছিল এতটি অ্যাডভাইজরি কমিটি। সেখানে নির্বাচন করা হয়েছে চার নভশ্চরকে। তাঁরা প্রত্যেকেই বায়ুসেনার বিভিন্ন বিভাগে রয়েছেন। মহাকাশযাত্রার আগে এই চার নভশ্চরকে ভাল করে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া হবে। তার জন্য শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ পর্ব। দেশের বিজ্ঞানীরা তো বটেই, এই চার নভশ্চরকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন রাশিয়ার মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তার জন্য খুব শীঘ্রই রাশিয়ায় উড়ে যাবেন বায়ুসেনার ওই চার অফিসার।

মহাকাশ গবেষণায় আরও উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার। গগনযানের মহড়ার জন্য ইসরোকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে রাশিয়ার মহাকাশ গবষণা সংস্থা রসকসমস। ইসরোর চেয়ারম্যান শিবন জানিয়েছেন, চার নভশ্চরের শারীরিক পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে হয়েছে আইআইএমে। এর পরের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে রাশিয়ায়। গগনযানের যাত্রা হবে তিনটি পর্যায়ে। দু’টো আনম্যানড-মিশন এবং একটা ম্যানড-মিশন। মানুষ নিয়ে গগনযান মহাশূন্য পাড়ি দেবে ২০২২ সালে।
[caption id="attachment_136851" align="aligncenter" width="504"]
মহাকাশচারীদের স্পেস-স্যুটের এই ছবিই সামনে আনে ইসরো [/caption]
১৯৮৪ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার ‘ইন্টারকসমস প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমেই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন পাইলট রাকেশ শর্মা প্রথম ও এখনও পর্যন্ত একমাত্র ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে গিয়েছিলেন। তাঁকে ও আর এক প্রাক্তন বায়ুসেনা পাইলট রবিশ মালহোত্রাকেও বেশ কয়েক মাস ধরে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে মহাকাশ যাত্রার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়েছিল রাশিয়াই। মস্কো ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞানের বাঁধাধরা ক্লাস নয়, হাতেকলমে ভারতীয় নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ দিতে তারা প্রস্তুত। রুশ মহাকাশযানে এক বা একাধিক ভারতীয় নভশ্চরকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ‘রাশিয়ান অরবিট সেগমেন্ট’-এ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে গগনযানে ‘ব্যোমযাত্রা’র চাপ আগে থেকেই সামাল দিতে পারবেন ভারতীয় নভশ্চররা।

চাঁদ মুলুকে এ বছরেও পাড়ি দিতে চলেছে ভারত। ইসরো চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চন্দ্রযান ২-এর খামতিগুলো পূরণ করবে চন্দ্রযান-৩। এবার আর অরবিচার নিয়ে নয়, কেবলমাত্র ল্যান্ডার ও রোভার সঙ্গে নিয়েই চাঁদে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ৩।
ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছেন, ২০২০ সাল ভারতের মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন নজির গড়বে। আগামী দিনে আরও বড় মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে ২০২০ থেকেই। পাশাপাশি, দেশের প্রতিরক্ষায় ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও)সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি স্যাটেলাইট লঞ্চ করার কথাও আছে ইসরোর। সব মিলিয়ে আগামী বছরে ইসরোর মিশন বেশ টানটান।