দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধবধবে সাদা দাড়ি। এক মাথা পাকা চুল, পাগড়ি দিয়ে ঢাকা। চোখে মোটা চশমা। হাঁটাচলা দেখেও বোঝার উপায় নেই। নড়বড় করে ধুঁকতে ধুঁকতে পাসপোর্টটা বাড়িয়ে ধরতেই সন্দেহ হলো সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) এক জওয়ানের। ব্যাপারটা ঠিক কী হলো? আদবকায়দা বৃদ্ধের মতো সন্দেহ নেই, কিন্তু চামড়ার গড়ন মোটেও বৃদ্ধের মতো নয়। সাদা দাড়ির ফাঁক দিয়ে দিব্যি উঁকি দিচ্ছে টানটান স্কিন। পাসপোর্টের ছবির সঙ্গেও মিল খুব একটা আছে কি? কে এই বৃদ্ধ?
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই বৃদ্ধকে নিয়েই রবিবার দিনভর নাটক চলল। শেষে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে বৃদ্ধের মুখের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, তার মালপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে, প্রশ্নবাণে জেরবার করে শেষে বোঝা গেল, এই ব্যক্তি আদতে ৩২ বছরের এক যুবক। নাম জয়েশ পটেল। বুড়ো সেজে, নাম ভাঙিয়ে, জাল পাসপোর্ট বানিয়ে নিউ ইয়র্কের বিমানে চেপে বসার তালে ছিল। যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইএসএফ।
আহমেদাবাদের বাসিন্দা জয়েশ। সিআইএসএফের অফিসাররা জানিয়েছেন, যুবক নিজের নাম জানিয়েছিল অমরিক সিং। বয়স বলেছিল ৮১ বছর। পাসপোর্টে যে ছবি ছিল, ঠিক সে ভাবেই সেজেছিল জয়েশ। তবে মেকআপটা ঠিকঠাক হয়নি। গলদ রয়ে যায় স্কিন-মেকআপে। সেটাই নজরে পড়ে যায় সিআইএসএফের দুঁদে অফিসারদের। এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘হাবভাব যতই বুড়োদের মতো হোক, আমাদের নজর এড়ায়নি। এত বয়স্ক লোকের চামড়া এত টানটান হয়না। তার উপর ডিরো পাওয়ারের চশমা পরেছিল যুবক। সেটাও আমি পরীক্ষা করে দেখি। তখনই সন্দেহ হয়। টান দিতেই দাড়ি খুলে আসে হাতে।’’
কেন বা কী কারণে যুবক এই রূপ বদলে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছিল সেটা এখনও অজানা। সিআইএসএফ জানিয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে ওই যুবকের যোগ রয়েছে কি না।