দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সেই আর্জিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিনয়। সেই পিটিশন এদিন খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে বিনয়ের সামনে আবেদন করার আর কোনও আইনি প্রক্রিয়া বাকি রইল না।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন বিনয় শর্মার আইনজীবী এপি সিং বলেন, তাঁর মক্কেলকে বন্দি করা রাখা বেআইনি। তার উপর তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ অত্যাচার চালিয়েছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী। অন্যদিকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিনয় শর্মার আইনজীবীর দাবি সঠিক নয়। এই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বিশেষ কোনও জায়গা নেই। কারণ রাষ্ট্রপতিও এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। তাই এই বিষয়ে বিশেষ কিছু কথা বলারও নেই।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জানান, অভিযুক্তের আইনজীবী যে দাবি করেছেন, তা সত্যি নয়। তিনি এও দাবি করেছিলেন, অভিযুক্ত মানসিকভাবে সুস্থ নয়। কিন্তু তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের তরফে যে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে সে সম্পূর্ণ সুস্থ। সুতরাং এই আবেদন খারিজ করছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুধু বিনয় শর্মা নয়, আর এক অভিযুক্ত পবন গুপ্তাও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তার দাবি ছিল, সেই সময় সে নাবালক ছিল। কিন্তু পুলিশ তাকে নাবালক হিসেবে দেখায়নি। পবনের এই আবেদন আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ফের এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে তার আইনজীবী। সেই পিটিশনও খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।
২০১২ সালে এই গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরে দীর্ঘ সাত বছর ধরে শুনানির পরে চার অভিযুক্ত বিনয় শর্মা, পবন গুপ্তা, অক্ষয় ঠাকুর ও মুকেশ সিংয়ের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। আর এক অভিযুক্ত রাম সিং জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করে। কিন্তু ফাঁসির সাজা দেওয়ার পরেও একের পর এক আবেদন করছে দোষীরা। ফলে ইতিমধ্যেই তিনবার পিছিয়েছে ফাঁসির দিন। তাই কেন্দ্রের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যদি একসঙ্গে চারজনের ফাঁসি না দেওয়া যায়, তাহলে একে একে ফাঁসি দেওয়া হোক। সেই আবেদনেরও শুনানি ছিল আজ। কিন্তু শুনানি চলাকালীন বিচারপতি আর ভানুমতি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় এই আবেদনের শুনানি আজ স্থগিত হয়ে যায়।