
নরেন্দ্র মোদী - মমতা ব্যানার্জী
শেষ আপডেট: 27 May 2024 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রেমাল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৪টি ব্লক এবং ৭৯টি পুরসভার ওয়ার্ড এলাকায় তাণ্ডব চলেছে রেমালের। এখন বড় প্রশ্ন যে, এবারও ক্ষতিপূরণ নিয়ে কি ফের কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন শুরু হবে? দিল্লি-কলকাতা রাজনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান যে মতিগতি তাতে এরই মধ্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন নবান্নের একাংশ আমলা।
এই সাত সতেরো প্রশ্নের মধ্যেই মঙ্গলবার ঘটনাচক্রে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রসঙ্গত আমফানের পরদিনই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী কাল তাঁর বাংলা সফর পুরোপুরি রাজনৈতিক। তবে অনেকে মনে করছেন, মোদীর উদ্দেশে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতেই পারে শাসক দল।
আমফানের পর ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। আমফানের ক্ষতিপূরণ বাবদ কেন্দ্রের কাছে যে টাকা দাবি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তার সিকিভাগও দেয়নি কেন্দ্র। ওই ঘূর্ণিঝড়ের পর পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো বার্তায় কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর তিনি জানিয়েছিলেন, “আমফানে ৩৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।”
এ ব্যাপারে কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তিও ছিল। আমফানের কারণে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সরেজমিনে দেখতে বাংলায় টিম পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। তার পর দিল্লির বক্তব্য ছিল, রাজ্য যে টাকা দাবি করেছে, তাতে অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই টাকার অঙ্ক চূড়ান্ত করার আগে রাজ্য সরকারের কাছে কিছু ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার সদুত্তর পেলে তবেই চূড়ান্ত অর্থ অনুমোদন করা হবে।
এবার কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার অবশ্য এখনও কোনও সমীক্ষা হয়নি। কারণ, দুর্যোগ পুরোপুরি কাটেনি। বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ চলছে। কিন্তু কাল পরশুর মধ্যে তা শেষ হলেই অনুদানের প্রশ্নটি অবধারিত ভাবে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নের এক কর্তার কথায়, তাৎক্ষণিক কিছু ক্ষতিপূরণ দিল্লি দিতে পারে ঠিকই। তবে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে টাকা পেতে এবার দেরি হতে পারে। কারণ, রাজ্যের ক্ষতিপূরণের দাবি সঙ্গত কিনা তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের অফিসাররা জিও ট্যাগিংয়ের সাহায্য নেয়। তার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করে যে কত বাড়ি, স্কুলের ক্ষতি হয়েছে, কত বিদ্যুতের খুঁটি উপড়েছে।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “কেন্দ্র ক্ষতিপূরণ নিশ্চয়ই দেবে। কিন্তু তৃণমূলকে লুঠ করার জন্য কোনও টাকা দেবে না।”