দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না পুলিশ। ঢোকা যাবে না জুতো পরেও। বুধবার এমনই মত দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। মন্দিরে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে গত সপ্তাহেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল শ্রীমন্দির চত্বর। সেই প্রেক্ষিতেই এ দিন এমন মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি মদন কে লোকুর ও বিচারপতি দীপক গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ।
সুপ্রিম কোর্টের তরফে ওড়িশা সরকারকে জানানো হয়েছে গত ৩ অক্টোবরের অশান্তির ঘটনায় ৪৭ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। সরকারের তরফ থেকেও পুরী মন্দিরের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টকে। সরকারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে জানানো হয়, ওই দিন মূল মন্দিরের ভিতরে কোনও অশান্তি হয়নি। বরং, শ্রীমন্দির থেকে ৫০০ মিটার দূরে মন্দিরের অফিসে হামলা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরে চলছিল 'পান্ডারাজ'। সেটা বন্ধ করতে এবং মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভক্তদের লাইন দেওয়ার পদ্ধতিতে নতুন নিয়ম আনতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। সুপ্রিম কোর্টের তরফেও বলা হয়েছিল দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলির মতো আরও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পুরীর মন্দিরের কর্মকাণ্ড সামলানো যায় কিনা সে বিষয়টা খতিয়ে দেখতে। সেই মর্মেই পরীক্ষামূলকভাবে মন্দিরে ঢোকার নয়া নিয়ম চালু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এই নিয়মের বিরোধীতা করে গত ৩ অক্টোবর জগন্নাথ সেনা নামে একটি স্থানীয় সংগঠন ১২ ঘণ্টার পুরী বন্ধের ডাক দেয়। বন্ধ ঘিরে দফায় দফায় মন্দির চত্বরে পুলিশের সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের সংঘর্ষ বেধে যায়। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় শ্রীক্ষেত্রে। উত্তপ্ত আবহে মন্দির-চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি করেও ওই দিন মন্দিরে ভাঙচুর ঠেকানো যায়নি। ঘটনায় আহত হন ৯-১০ জন পুলিশ কর্মী।
সেবায়েতের একাংশের দাবি ছিল, নয়া নিয়ম কার্যকরী হলে দূর থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধা হলেও সমস্যায় পড়বেন স্থানীয়েরা। মন্দিরের যে কোনও দরজা দিয়ে যখন তখন ভিতরে প্রবেশের অবাধ সুযোগ রয়েছে। সবাইকে লাইন দিয়ে ঢুকতে হলে তাঁরা অনেকে গর্ভগৃহের কাছাকাছি পৌঁছতেই পারবেন না। জগন্নাথ দর্শনের পরে ইচ্ছেমতো মহালক্ষ্মী বা বিমলা মায়ের দর্শনের অভিলাষও হয়তো পূরণ হবে না।
এই সমস্যার সমাধানে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষের দাবি করে একটি সংগঠন। শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবীদের তরফ থেকে জানানো হয় গণ্ডগোলের দিন পুলিশ কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ও জুতো পরে মন্দিরে ঢুকেছিল। মামলা ওঠে মদন বি লোকুর এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের সময়ই এক জন বিচারপতি মন্তব্য করেন, পুলিশেরও জুতো পরে বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢোকা উচিত নয়।
আগেই রত্নভাণ্ডারের চাবি হারানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল শ্রীক্ষেত্র। সেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলবে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত। তার আগেই ভক্তদের দর্শনের পদ্ধতি নিয়ে এমন বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ তথা ওড়িশা সরকার।