দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার কোভিড নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বক্তব্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ। তিনি বলেন, কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন প্রথমে দেওয়া হবে ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মীকে। তারপরে দেওয়া হবে ২ কোটি ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারকে। অর্থাৎ যাঁরা সামনের সারিতে থেকে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় ওই ভ্যাকসিন পাবেন। তাঁদের মধ্যে আছেন পুলিশ ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর কর্মী এবং পুরকর্মীরা।
এদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসের পক্ষে বক্তব্য পেশ করেন রাজ্যসভার সাংসদ গুলাম নবি আজাদ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, এনসিপি-র পক্ষে বলেন 'মারাঠা স্ট্রংম্যান' শরদ পাওয়ার এবং শিবসেনার পক্ষে বলেন বিনায়ক রাউত। সরকারের তরফে মোদী বাদে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ ব্যাখ্যা করেন, কোভিড মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত ভারতের কতদূর অগ্রগতি হয়েছে।
মোদী বলেন, খুব তাড়াতাড়ি ভারতে কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসবে। এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনের দাম নিয়ে রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা চলছে। পরে তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করার ক্ষেত্রে সাফল্যের বিষয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। খুব শিগগির ভ্যাকসিন চলে আসবে। গোটা দুনিয়া সবথেকে কম দামের ও সবথেকে সুরক্ষিত ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাই ওরা ভারতের দিকে তাকিয়ে।"
ভারতের করোনা পরিস্থিতি ও ভ্যাকসিন নিয়ে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত সপ্তাহে ভারতের তিনটি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থায় যান মোদী। সেখানে গিয়ে ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া ও তা কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে তা খতিয়ে দেখেন তিনি। সেই বিষয়ে এদিন সর্বদলীয় বৈঠক থেকেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন মোদী। তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন বন্টনের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞ কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। বেশি সংখ্যায় যাতে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায় সেই সুবিধা ভারতে রয়েছে। সত্যি কথা বলতে আমাদের প্রস্তুতি অনেক দেশের থেকে ভাল।”
এই মুহূর্তে বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতে সংক্রমণের ছবিটা অনেকটাই ভাল। গত কয়েক দিন ধরে ৪০ হাজারের নীচে রয়েছে দৈনিক সংক্রমণ। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও ৫০০-র আশেপাশেই থাকছে। সেইসঙ্গে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে কমছে অ্যাকটিভ কোভিড রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা অপেক্ষা করছেন ভ্যাকসিনের। জোর কদমে চলছে তার প্রস্তুতি। সেই বিষয়েই এদিন বৈঠকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা সারলেন মোদী।