জাপানের দাবি, চিন-রাশিয়া তৈরি করছে ‘কিলার স্যাটেলাইট’। জবাবে ক্ষুব্ধ চিন। মহাকাশে প্রতিরক্ষা দৌড়ে ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে, জেনে নিন।

'কিলার স্যাটেলাইট'
শেষ আপডেট: 31 July 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার দৌড় এবার পৌঁছেছে মহাকাশে। প্রথমবার মহাকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করল জাপান। সেই নীতিপত্রে জাপান অভিযোগ তুলেছে, চিন ও রাশিয়া এমন ধরনের স্যাটেলাইট তৈরি করছে, যেগুলি অন্য দেশের স্যাটেলাইটকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করতে সক্ষম। এই তথাকথিত ‘কিলার স্যাটেলাইট’-এর প্রসঙ্গ তুলতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল চিন।
চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, জাপান সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, জাপান এইসব কথার অজুহাতে সামরিক শক্তি বাড়াতে চাইছে, এবং এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জাপানের নয়া গাইডলাইনে বলা হয়েছে, মহাকাশে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। কারণ, চিন ও রাশিয়ার তৈরি স্যাটেলাইটগুলির মধ্যে এমন ক্ষমতা রয়েছে, যেগুলি অন্য দেশের স্যাটেলাইট ধ্বংস বা বিকল করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জাপানের সেলফ ডিফেন্স ফোর্স এবং বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে যৌথভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে স্যাটেলাইট সুরক্ষা, মিসাইল শনাক্তকরণ এবং তথ্য সংরক্ষণ আরও মজবুত হয়।
তবে, চিন এই অভিযোগ একেবারেই মানতে নারাজ। চিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওগ্যাং দাবি করেছেন, চিনের মহাকাশ কর্মসূচি একান্তই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। চিনা বিশেষজ্ঞ ফু কিয়ানশাও জানিয়েছেন, চিন মহাকাশে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা দিয়ে স্যাটেলাইটের রক্ষণাবেক্ষণ, রিফুয়েলিং বা লাইফ এক্সটেনশন সম্ভব। কোনওভাবেই এগুলো আক্রমণাত্মক নয়। তাঁর মতে, এই স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক কাজকর্মকে জাপান ‘কিলার স্যাটেলাইট’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
চিন আরও বলেছে, জাপান অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। কারণ, চলতি বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার চিনা প্রতিরোধ যুদ্ধের ৮০তম বর্ষপূর্তি। সেই প্রসঙ্গে চিন মনে করিয়ে দিয়েছে, জাপান এখনও পর্যন্ত নিজের যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করেনি। বরং আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থাকে বিঘ্নিত করছে।
এদিকে, গত কয়েক বছরে জাপান তার সামরিক খাতে রেকর্ড হারে ব্যয় করেছে। আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে তারা যৌথভাবে মহাকাশ নিরাপত্তায় কাজ করছে। জাপান বলছে, এই পদক্ষেপ আত্মরক্ষার স্বার্থে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলির ধারণা—এই প্রবণতা জাপানি সামরিকতন্ত্রের পুনরুত্থানের লক্ষণ হতে পারে।
এতসব বিতর্কের মধ্যে ভারত কী ভাবছে? ভারতও এখন এক শক্তিশালী মহাকাশ শক্তি। ISRO ও DRDO-এর নেতৃত্বে ভারত নিজস্ব স্যাটেলাইট সিস্টেম এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষা নীতিতে অগ্রগতি করছে। জাপান-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক কালে আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে, চিনের সঙ্গে ভারতের উত্তপ্ত সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই মহাকাশ প্রতিরক্ষা দৌড় ভারতকেও চাপে ফেলতে পারে।