দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬১ বলে ২৩ রান। স্ট্রাইক রেট ১৪.২৯। মাত্র চারটে চার মেরেছেন। তবে তাতে মাপা যাবে না এই ইনিংস। এক পায়ে বাঁধা স্ট্র্যাপ। মাঝেমধ্যেই ফিজিও এসে দেখে যাচ্ছেন। দৌড়নো তো দূরের কথা, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি হনুমা। সিডনিতে পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে হনুমার ওই ২৩ রান কোনও সেঞ্চুরির থেকে কম নয়। তিনি থাকায় যেন ভরসা পেলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। অস্ট্রেলিয়ার জেতা ম্যাচ ড্র করলেন তাঁরা। কিন্তু তারপরেও যেন কোথাও গিয়ে কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল হনুমার টেস্ট ভবিষ্যৎ।
ভারতীয় দিলে কিছু ক্রিকেটার রয়েছেন যাঁরা শুধুমাত্র টেস্ট খেলেন। চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক্যা রাহানে, হনুমা বিহারি, ঋদ্ধিমান সাহারা পড়েন সেই দলে। তাই দেশের জার্সি গায়ে তাঁদের এমনই মাঠে নামার সুযোগ কম। তারপরেও পুজারা বা রাহানের থেকে অনেক চাপের মধ্যে থাকেন হনুমা, ঋদ্ধি। কারণ ভারতের টেস্ট দলে সহ-অধিনায়ক রাহানে। অন্যদিকে পুজারা আবার টিমের ‘নম্বর তিন’। কিন্তু বাকি দু’জনকে সবসময় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। ঋষভ পন্থ থাকায় ঋদ্ধির উপর চাপ। অন্যদিকে লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়ারা থাকায় সবসময় লড়াইয়ের মধ্যে থাকতে হয় হনুমাকে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই রান পাননি হনুমা। এক সময় কথাও ওঠে তাঁকে বসিয়ে লোকেশ রাহুলকে মিডল অর্ডারে খেলানোর। কিন্তু তারপরেও তাঁর উপরেই ভরসা দেখিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। সেই ভরসার দাম দিয়েছেন তিনি। বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর ক্লাস ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই।
এদিন যখন রান নিতে গিয়ে হনুমার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট হয়, তখন ভারতের অবস্থা যথেষ্টই খারাপ। পন্থ ও পুজারা আউট হয়ে গিয়েছেন। ক্রিজে শুধুমাত্র অশ্বিন। পরের ব্যাটসম্যান বলতে রবীন্দ্র জাদেজা, যিনি আঙুলে ফ্র্যাকচার নিয়ে বসে। চাইলে হনুমা উঠে যেতেই পারতেন। তাঁকে কেউ কিছু বলত না। কিন্তু খেললেন তিনি। পায়ে স্ট্র্যাপ বেঁধে শুরু হল তাঁর লড়াই। রান নিয়ে ভাবেননি তিনি। শুধু উইকেটে আঁকড়ে পড়ে থেকেছেন। ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছেন। এক পায়ে যে লড়াই তিনি করেছেন, সেটাকেই আসল টেস্ট ক্রিকেট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে শুধুমাত্র গায়ের জোর বা ক্ষমতার বিচার হয় না, পরীক্ষা হয় মানসিকতা ও টেকনিকের। তাতে ১০০ এ ১০০ পেয়েছেন হনুমা।
তারপরেও তাঁর টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কারণ তিনদিন পরেই ব্রিসবেনে টেস্ট। সেখানে হনুমা খেলতে পারবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তারপরে দেশে ফিরবে ভারত। ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ড আসছে এদেশে। ভারতের মাটিতে টেস্টে আবার হনুমা দলের অটোমেটিক চয়েস নন। কারণ দেশের মাটিতে তাঁর থেকে রাহুল, পান্ডিয়াদের দিকে বেশি নজর দেয় ম্যানেজমেন্ট। তাই দেশে খুব কম টেস্টই খেলেছেন তিনি।
তার মানে আবার যখন ভারত বিদেশ সফরে যাবে তখন ফের সুযোগ আসবে হনুমা বিহারির। কিন্তু ততদিনে কেউ তাঁর জায়গায় পারফর্ম করে দিলে তো তাঁর উপরেই ভরসা দেখাবে ম্যানেজমেন্ট। তখন কি তাঁদের মনে থাকবে সিডনির অসমান বাউন্সের পিচে বিশ্বের সেরা বোলারকে কীভাবে সামলেছেন আহত হনুমা। উত্তর দেবে সময়ই।