দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পাশের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডেও যেভাবে অনুশীলন করতেন তৎকালীন এটিকে কোচ আন্তোনিও হাবাস। একই কায়দায় গোয়াতেও এটিকে-মোহনবাগান ফুটবলারদের তালিম দিচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ। যুবভারতীর পাশের মাঠে কালো কাপড়ে ঢেকে ক্লোজড ডোর অনুশীলন করত এটিকে দল। করোনা আবহের মধ্যেও নিয়ম বদল করেননি হাবাস।
বুধবারও বেনোলিনের মাঠে স্প্যানিশ কোচ কালো কাপড়ে ঢেকে দেন মাঠের চারিপাশ। কারণ পাশেই সমুদ্র সৈকত, এমনকি রাস্তাও রয়েছে। সেখানে অনবরত হেঁটে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। তাই সাবধানের মার নেই — এই প্রবাদকে মনে রেখেই এই বিদেশী কোচ এই পন্থা অবলম্বণ করেছেন।
গোয়ায় তীব্র গরমের মধ্যেই দুই বেলা চলছে অনুশীলন। বৃহস্পতিবার থেকে তা একবেলায় নেমে আসবে। পুজোর সময়েও ছুটি ছিল না প্রীতম কোটাল, প্রবীর দাস, প্রণয় হালদারদের। তবে অষ্টমীর রাত ছিল ব্যতিক্রমী। গোয়ায় পুরো দলের জন্য বাঙালি খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ছিল সরষে মাছ থেকে আলুপোস্ত, ছোলার ডাল, চিকেন কারি, ডিম বিরিয়ানির সঙ্গে সন্দেশও।
দশমীতেও রসগোল্লা সহযোগে পুরো দলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। বঙ্গ ব্রিগেডের সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলারদেরও বাংলার খাবার দেওয়া হয়। পুরো দল রিসর্টে আসার পরে অষ্টমীর রাতে একসঙ্গে ডিনার সারে। নবমীর সকালে আবার শুরু হয় পুরোদমে অনুশীলন।
তিরি, ব্র্যাড ইনম্যান, সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, গ্লেন মার্টিন্স, শুভাশিস বসু, এমনই হাতে গোনা কয়েকজন ফুটবলার ছাড়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের বেশিরভাগ সদস্য রয়েছেন এটিকে এমবি দলে। ডেভিড উইলিয়ামস, কার্ল ম্যাকহিউজ এবং তিন স্পেনীয় ফুটবলার ইতিমধ্যে বল নিয়ে অনুসীলন শুরু করেছেন।
শনিবার কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ করে রয় কৃষ্ণ, ইনম্যানরা মাঠে নেমে পড়বেন। দলের বেশিরভাগ ফুটবলার হাবাসের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে পরিচিত। তাই পজেশনাল ফুটবল অনুশীলন শুরু করে দিতে অসুবিধা হয়নি হাবাসের।
২০ নভেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচ। তার আগে তিন সপ্তাহ সময় হাবাস পাবেন দলকে পুরোদস্তুর গুছিয়ে নিতে। তা নিয়ে অবশ্য তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। এটিকে-মোহনবাগান দলের মিডিয়া প্রতিনিধিকে কোচ হাবাস জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সব কিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। এখানে আসার এক মাস আগে থেকেই নির্দিষ্ট ভাবনা নিয়ে এগিয়েছি আমরা। মাদ্রিদ থেকে অনলাইন ফিজিক্যাল ট্রেনিং ক্লাস শুরু হয়েছিল। এবারের পরিস্থিতি অন্য ধরনের। আমাদের মতো একই পরিস্থিতি অন্য দলগুলির। পেশাদারদের সমস্ত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। যে লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি, তা সফল করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”