দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে ভারতের ক্রিকেটাররা নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন। দীর্ঘদিনে বিদেশের মাঠে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাদের লড়তে হয়েছে, সেই ঘটনাও বলছেন দেশের ক্রিকেটাররা।
এরকমই একটি ঘটনার কথা তুলে ধরলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধরের সঙ্গে কথোপকথনে অশ্বিন জানিয়েছেন, সিডনিতে লিফটের ভেতরে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা থাকলে, ভারতীয়দের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।’’
অশ্বিন বলছেন, ‘‘আমরা সিডনি পৌঁছনোর পরই কঠোর সব নিষেধাজ্ঞা আমাদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়। কার্যত বন্দি করে ফেলা হয় আমাদের। খুব অবাক করার মতো একটা অভিজ্ঞতাও হয়েছিল আমাদের। অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা যখন লিফটের ভেতরে থাকত, আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।’’
ভারতীয় অফস্পিনার আরও যোগ করেন, ‘‘ঘটনাটা খুব বিস্মিত করার মতো। দুটি দলই তো একই জৈব সুরক্ষা বলয়ে ছিল। সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের সবাইকে খুব অবাক করেছিল এই নিষেধাজ্ঞা। আমরা কয়েকবার প্রতিবাদও করেছিলাম, কিন্তু কাজ হয়নি।’’
ভারতের সিনিয়র ক্রিকেটার জানান, সিডনিতে আমাদের সঙ্গে বেশি এ ধরনের ব্যবহার করা হয়েছিল। যাতে আমরা চাপে পড়ে যাই, আর মাঠে তার প্রতিফলন পড়ে। কিন্তু অস্ট্রেলীয়রাই বেশি এসব করে চাপে পড়ে গিয়েছিল। ওরা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি ভাবেনি।’’
অ্যাডিলেড টেস্টে ভারত ৩৬ রানে শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই অস্ট্রেলীয়রা এগুলি বেশি করতে থাকেন। সেই কারণেই অশ্বিন বলেছেন, ‘‘মেলবোর্নে প্রচুর নাটক হলো। অস্ট্রেলিয়ায় যখন আমরা এসেছিলাম, তখন কিন্তু বলা হয়েছিল ইতিমধ্যেই আমরা আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে এসেছি। তাই খুব কঠোর কোয়ারেন্টিনে আমাদের থাকতে হবে না। আমরা সিনেমা দেখতে যেতে পারি, কফি শপে যেতে পারি। কিন্তু আচমকা আমাদের বলে দেওয়া হয় শুধুই ঘরবন্দী থাকতে হবে হোটেলে, এটা বেশ কঠিন ছিল আমাদের কাছে।’’
অশ্বিন এও যোগ করেন, আমরা সিরিজ ১-১ করতে সব পরিস্থিতিই বদলে গেল। তখনই আমাদের বলে দেওয়া হল, হোটেলের ঘর থেকে নড়াচড়া করা যাবে না। অনন্তকাল ধরে কী করে হোটেলের ঘরে বন্দি থাকা সম্ভব? আমি অস্ট্রেলিয়াতে পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম। আমরা সন্তানরা রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল। ওই পরিস্থিতি সামলে মাঠে খেলা কঠিনই ছিল।’’