
মিচেল স্টার্ক
শেষ আপডেট: 17 April 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি আইপিএলে বলে থুতু লাগানো নিয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও আগের নিষেধ কার্যকর থাকলেও টি-২০ লিগে বিসিসিআই নিয়ম বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। যাকে স্বাগত জানিয়েছেন বোলার, বিশেষ করে পেসারদের বড় অংশ।
গতকালই মোহিত শর্মার মতো সিমার দাবি করেন, এই মরশুমে থুতু ব্যবহার সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন। বল এখন আগের চেয়ে বেশি বাঁক নিচ্ছে।
যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ অভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় বোলার মিচেল স্টার্ক। তাঁর মতে, লাল বলে থুতু মাখালে যদি বা সুইং করে, সাদা বলে এর কোনও রকম সম্ভাবনাই নেই। যারা আইপিএলে বলে থুতু লাগানোকে ‘গেম-চেঞ্জার’ বলতে চাইছেন, তাঁরা অতিরঞ্জিত করছেন।
স্টার্ক বলেন, ‘আমি থুতু লাগাই না। আমার মনে হয় এটা মিথ। অনেকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন ঠিকই। কিন্তু আমি জানি না, থুতু ও ঘামের ফারাক কী ও কোথায়। মনে হয় না, এটা কোনও পার্থক্য আনে বলে। লাল বলে আলাদা কিছু হলেও হতে পারে। সাদা বলে কখনওই সম্ভব নয়।‘
যদিও গতকালই এর উল্টো দাবি জানান মোহিত শর্মা। বলেন, ‘এখন ৭০ শতাংশ ম্যাচে বল ভেতরে সুইং খেয়ে ঢুকছে। আর এটা হচ্ছে তার কারণ বলে থুতু ঘষা হচ্ছে। আগে ঘাম লাগানো হত। কিন্তু থুতু ঘামের চাইতে ভারী। ফলে থুতু-ঘষা বলও ভারী হয়ে উঠছে। আর সেটা ভেতরে সুইং করছে। ইদানীং মাঠে খুব একটা শিশির পড়ে না। ফলে থুতু সুইংয়ের জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী হয়ে উঠেছে।‘
প্রসঙ্গত, থুতু লাগানোর নিয়ম রদ করা হয় ২০২০ সালে। সেটা ছিল সাময়িক। দু’বছর বাদে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই নিয়ম পাকাপাকিভাবে বলবৎ হয়। প্রথমে মহম্মদ সামি একা এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেও পরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার। সলিল আঙ্কোলা, প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক, তাঁদের একজন। সলিল বলেন, ‘এই ব্যান এখনই উঠে যাওয়া উচিত। আমি সামির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত। এখন সবকিছু ব্যাটসম্যানদের পক্ষে চলছে। কিছু জিনিস অন্তত বোলারদের পক্ষেও থাকা প্রয়োজন।‘
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এই মরশুমে রঞ্জি টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দিতে গিয়েও আমি এই বিষয়টা নিয়ে বলেছি। বলে লালা ব্যবহার শতাব্দী প্রাচীন। ১৯২০ সালে অতিমারি এসেছিল, তখনও ক্রিকেট খেলা হত, বলে বোলাররা থুতু মাখতেন। কিন্তু সেই নিয়ম রদ করা হয়নি।‘
উপমহাদেশের বাইরের বোলারদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদিও সামির হয়ে সওয়াল করেন। বলেন, ‘বোলার হিসেবে আমি অবশ্যই একটা অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইব। এখন আকছার ৩০০ বা তারও উপর রান উঠছে। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৬২ রান তুলেছে। ফলে বোলারদের জন্যও কিছু থাকা উচিত। জানি না এটা ফিরিয়ে আনতে আইসিসির অসুবিধে কোথায়।‘
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ভের্নন ফিলান্ডারের মতে, রিভার্স সুইং বোলারদের একটা বাড়তি অস্ত্র। ম্যাচের শেষ দিকে বল যখন পুরোনো হয়ে গিয়েছে, তার চাকচিক্য তেমন নেই, তখন তাতে থুতু লাগালে রিভার্স সুইংয়ের সুযোগ বাড়ে। ফলে এই কৌশল এখনই চালু করা জরুরি।
ইদানীং ক্রিকেট ব্যাটার-প্রধান, বোলারদের দিকে তেমন নজর দেওয়া হয় না, খেলা হয় পাটা পিচে, রান ওঠে প্রচুর, এমনকী ফিল্ডিংয়ের বাঁধাবাঁধি নিয়ে যে কানুন আনা হচ্ছে—সবই বোলারদের বিপক্ষে গেছে। চলতি বিতর্কে সামির পক্ষ নেওয়া ক্রিকেটাররা তাই রিভার্স সুইংকে সামনে রেখে আদতে পেসারদের গুরুত্বকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।
যদিও থুতু রদের নির্দেশিকা তোলার আগে সতর্কতা নেওয়া জরুরি। পাল্টা পক্ষ নিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় বোলার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টা গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করা উচিত। নতুন ভাইরাস কবে, কীভাবে হানা দেবে কেউ জানে না। তাই বোলারদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংক্রমণ ও পরিচ্ছন্নতার ইস্যু মাথায় রাখতে হবে।