.jpg)
রিজওয়ানদের পারফরম্য়ান্সে হতাশ পাকিস্তান ক্রিকেট সমর্থকরা
শেষ আপডেট: 27 February 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৯ বছর পর পাকিস্তানে কোনও আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু, জয়ের ঝুলি একেবারে শূন্য। গ্রুপ পর্যায়ের পয়েন্ট টেবিলেও নাম রয়েছে সকলের নীচে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মহম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বে দেশের মাটিতে পাকিস্তান লজ্জার হার স্বীকার করেছে। যে দলটাকে মনে করা হচ্ছিল যে খেতাব ধরে রাখতে পারবে, তারাই আপাতত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যাট হাতে তো নজর কাড়তে পারেইনি, উল্টে বোলারদের মুখেও লেগেছে চুনকালি। যে শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ এবং হ্যারিস রউফের উপর পাকিস্তানের গর্ব ছিল, তিনজনই মেন ইন গ্রিনের যাবতীয় অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট দল আপাতত পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের থেকেও নীচে রয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে তারা কতটা অসহায় ক্রিকেট খেলেছে।
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে মহম্মদ রিজওয়ানের দল ধামাকাদার পারফরম্যান্স করেছিল। এমন খেলা দেখে অনেকেই আশা করেছিলেন যে চলতি টুর্নামেন্টে তারা ভাল পারফরম্যান্স করতে পারবে। ঘরের মাটিতে যেহেতু খেলা হচ্ছে, সেকারণে রিজওয়ান অ্যান্ড কোম্পানির থেকে সকলেই ভাল পারফরম্যান্স আশা করেছিলেন। কিন্তু, মাত্র ৪ দিনের মধ্যে যাবতীয় আশা শেষ হয়ে যায়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানকে হারিয়ে রিজওয়ানদের মুখের সামনে আয়না তুলে ধরেছিল। কিন্তু, তা সত্ত্বেও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের চোখ খোলেনি। আর সেকারণেই ভারতের বিরুদ্ধে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে।
দুটো ম্যাচ হারার পরই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে গ্রুপ পর্বেই পাকিস্তানের যাত্রা শেষ হয়ে যাবে। অবশেষে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা কোনওক্রমে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে চেয়েছিল। কিন্তু, বরুণদেবের আশীর্বাদে সেই আশাটুকুও পাকিস্তানের পূরণ হল না। রাওয়ালপিন্ডিতে এমন বৃষ্টি শুরু হল যে শেষপর্যন্ত টসই করা গেল না। শেষপর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়েই পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যদি পাকিস্তানকে জিততেই হত, তাহলে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করা দরকার ছিল। কিন্তু, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেন। ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে বাবর আজম এবং মহম্মদ রিজওয়ানের উপর অনেকটা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু, দুজনেই খুব বেশি রান করতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাবর আজম হাফসেঞ্চুরি করলেও, তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। অন্যদিকে রিজওয়ান এই টুর্নামেন্টে একটাও অর্ধশতরান করতে পারেননি। ফখর জামানের থেকে ২০১৭ সালের মতো পারফরম্যান্স আশা করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনিও চোটের কারণে ছিটকে যান। ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র সাউদ সাকিলই ভারতের বিরুদ্ধে ফিফটি করেন।
ব্যাট হাতে যখন বাবর-রিজওয়ান হতাশ করছেন, তখনই বল হাতে শাহিন শাহ আফ্রিদিও মুখ থুবড়ে পড়েন। আফ্রিদির বোলিংয়ে লাইন এবং লেংথ কোনওটাই দেখতে পাওয়া যায়নি। হাত খুলে তিনি বিপক্ষ ব্যাটারদের রান দিয়েছেন। ঘরের মাটিতে দুরমুশ হয়েছেন হ্যারিস রউফও। খুশদিল শাহর অভিজ্ঞতাও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খুব বেশি কাজে লাগেনি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও পাকিস্তানের মুখ লজ্জায় ডুবল। রিজওয়ান নতুন আশা নিয়ে হয়ত শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, শেষপর্যন্ত তাঁর কোনও পরিকল্পনা কাজে আসেনি।