
শেষ আপডেট: 4 October 2018 11:28
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার সুবাদে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে টিমে ডাক পেয়েছিলেন পৃথ্বী। কিন্তু প্রথম একাদশে সুযোগ মেলেনি। মিলল দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। সমালোচকরা বলতেই পারেন, এ তো দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলা। না আছে পেসের গতি, না বিষাক্ত সুইং। কিন্তু প্রথম টেস্ট সবসময় প্রথম টেস্ট। সে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধেই খেলা হোক, কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। আর যখন পৃথ্বীর মতো ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামেন, তখন তাঁর উপর থাকে পুরো লাইমলাইট।
দেখে বিন্দুমাত্র বোঝা গেল না কোনও চাপের মধ্যে আছেন তিনি। প্রথম বল থেকে পেটানো আরম্ভ করলেন। এমনকী প্রথম ১৬ বলে একটাও ডিফেন্সিভ শট খেলেননি তিনি। উল্টোদিকে তার আগেই শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরে গেছেন লোকেশ রাহুল। পূজারার সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন। ভালো বল ছাড়লেন, খারাপ বল মারলেন। সবথেকে বড় কথা, উড়িয়ে মারার চেষ্টা করলেন না। নিজের শক্তি অনুযায়ী খেললেন। ১৫ টা চার মেরে ৯৯ বলে পূর্ণ করলেন নিজের শতরান। সেই সঙ্গে নাম লেখালেন অভিষেক টেস্টে শতরানকারীদের এলিট ক্লাবে। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানের মাথায় আউট হলেও বুঝিয়ে দিলেন এই দলে থাকতে এসেছেন তিনি।
পৃথ্বীর আগে ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্টে শতরান করেছেন ১৪ জন। তাঁরা হলেন লালা অমরনাথ, দীপক সোধান, কৃপাল সিং, আব্বাস আলি বেগ, হনুমন্ত সিং, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, সুরিন্দর অমরনাথ, মহম্মদ আজহারউদ্দিন, প্রবীন আমরে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, সুরেশ রায়না, শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। এদের মধ্যে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ ও শিখর ধাওয়ান ওপেনার হিসেবে শতরান করেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ কনিষ্ঠ হিসেবে মহম্মদ আশরাফুল, হ্যামিলটন মাসাকাদজা ও সেলিম মালিকের পর অভিষেকে শতরান করলেন পৃথ্বী শ। ভারতীয়দের মধ্যে অভিষেক টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ ও সব মিলিয়ে শচীন তেণ্ডুলকরের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ হিসেবে শতরানের নজির গড়লেন পৃথ্বী।
কীভাবে এত ধারাবাহিক সাফল্য এই ১৮ বছর ৩২৯ দিন বয়সী ক্রিকেটারের মধ্যে?
পৃথ্বীর আজকের পৃথ্বী শ'তে পরিণত হয়ে ওঠার অন্যতম কাণ্ডারীর নাম রাহুল দ্রাবিড়। অনুর্ধ্ব ১৯, ইন্ডিয়া এ প্রত্যেক পর্যায়ে রাহুলের কাছেই তৈরি হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে রাহুল দ্রাবিড়ের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন পৃথ্বী। বলেছেন, কীভাবে নিজের মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছেন রাহুল স্যার। কীভাবে সব পরিস্থিতিতে ফোকাস ঠিক রাখতে শিখিয়েছেন।
সেই সঙ্গে রঞ্জি দলে পেয়েছেন শচীন তেণ্ডুলকরের মতো ক্রিকেটারের সাহচর্য। নিজের দুর্বলতা ঢেকে ফেলার পরামর্শ তাঁকে দিয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার। সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশের সঙ্গে হয়তো অনুর্ধ্ব ১৯-এর দিন গুলো থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করছিলেন পৃথ্বী। সেই জন্য প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে বিন্দুমাত্র জড়তা আসেনি।
https://twitter.com/sachin_rt/status/1047774822141292544
রাজকোটে পৃথ্বীর ব্যাটিং দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বরের কথা। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনিস, আকিভ জাভেদদের সামনে খেলতে নেমে ভাঙা নাকে লড়াকু ৬৮ করেছিল একটা ১৬ বছর বয়সী ছেলে। বিশ্ব ক্রিকেট বুঝে গেছিল, ক্রিকেটের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের আবির্ভাব হয়ে গেল। ২৯ বছর পর সেই একই রকমের লড়াকু মেজাজের এক ক্রিকেটারকে দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। হোক না প্রতিপক্ষ দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোক না ঘরের মাঠ। হোক না অনুর্ধ্ব ১৯, ইন্ডিয়া এ'র হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা। যে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে পা নড়াতে না পেরে এলবিডাবলু হলেন রাহুল সেই গ্যাব্রিয়েলকেই পরের ওভারে প্রথম বলে উইকেটের পাস দিয়ে যে স্ট্রেট ড্রাইভটা পৃথ্বী মারলেন, তা কিন্তু হুবহু.........