
শেষ আপডেট: 10 May 2018 14:07
দেবাশিস সেনগুপ্ত [/caption]
কলকাতা লিগ। ১৯৭৮এর জুন। দুরন্ত টিমে উজ্জ্বল মোহনবাগান। সব ম্যাচ জিতছে টানা। সব ম্যাচেই প্রচুর গোল করছে সবুজ-মেরুন। ২৬ ম্যাচে ৭৮ গোল করেছিল মোহনবাগান সেবার। যা এক মরশুমে কলকাতা লিগে করা গোলের নিরিখে রেকর্ড, আজও।
ভূমিকা শেষ। এবার আসল গল্প।
নির্মল নামে আপ্রাণ ইস্টবেঙ্গলী এক প্রিয় পাড়ার বন্ধু নিয়মিত যেত তাঁর প্রিয় ক্লাবের মাঠে। উয়াড়ির কাছে ১-০ হেরে দু'পয়েন্টে পিছিয়ে গিয়েছে (তখন জিতলে ২, ড্র হলে ১ পয়েন্ট ছিল) ইস্টবেঙ্গল। বিদ্রুপে জর্জরিত টিম। কিন্তু তারা জয়ে ফিরেছে পরের ম্যাচ থেকেই। স্বাভাবিক হয়ে আসছে গ্যালারিও। দু'ম্যাচ পরে মাঠ থেকে ফিরে নির্মল বলেছিল এই গল্পটা।
রাজস্থান বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে হাফটাইমে ১-০ গোলে এগিয়ে লাল-হলুদ। তৃপ্ত গ্যালারি হালকাচালে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিট নাগাদ ইস্টবেঙ্গলের রাইট ব্যাক ওভারল্যাপে উঠতেই হঠাৎ ১টাকা ১০ পয়সার গ্যালারি থেকে চিৎকার, "হাওড়া-চেতলা, হাওড়া-চেতলা, হাওড়া-চেতলা।"
ব্যাপারটা বুঝতে একটু সময় নিয়েছিল নির্মল। ওই রাইট ব্যাক ছিলেন চিন্ময় চ্যাটার্জী। যার জার্সির নম্বর ছিল ১৭। আর ১৭ নম্বর বাস যেত হাওড়া থেকে চেতলা। ওভারল্যাপরত চিন্ময় চ্যাটার্জীকে ১৭নম্বর বাসের সঙ্গে একাত্ম করে ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গলের ১টাকা ১০-এর গযালারি।
এরকম অসংখ্য টুকরো টুকরো গল্প আজও কোলাজ হয়ে আছে ময়দানের বুকের মধ্যে। আসলে কলকাতা মাঠের গল্প অফুরান। ঠিক যেন জীবনের মতো। যা ফুরিয়েও ফুরোয়না।