প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়
ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাবের ইনভেস্টর (Investor) শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ একটা ভাল সিদ্ধান্ত নিল, তারা আর কোচ (Coach) রাখল না রবি ফাউলারকে (Robbie Fowler)। লাল হলুদ সমর্থকদের মতোই আমারও একটা ব্যক্তিগত শঙ্কা ছিল, ফাউলার কোচ হয়ে এলে দলের সাফল্য কতটা আসত, তা নিয়ে। কারণ ফাউলার বড় ফুটবলার হতে পারেন, ভাল কোচ নন, এমনকি ভাল ম্যানেজারও নন।
আধুনিক ফুটবলে কোচিংয়ের সঙ্গে কোচদের ম্যানেজও করতে হয়। মানে, ম্যান ম্যানেজমেন্টে দক্ষ হতে হয়। তিনি যেহেতু ব্রিটিশ, একটু দাম্ভিক প্রকৃতির, তার মধ্যে তিনি ছিলেন বর্ণবিদ্বেষীও, এটা সমর্থকরা ভালমতন নেয়নি। গতবারও বেশ কয়েকবার তিনি বলেছেন, আমি ইংরেজ বলেই কি ভারতীয় রেফারিদের এত রাগ? এসব কথা একটা কোচের মুখে মানায় না।
ফাউলারের মস্ত বড় ভুল, তিনি অজুহাত মাস্টার। একটা দল ভাল খেললে পুরো কৃতিত্ব তিনি নিজে নেন, আর দল হারলেই ফুটবলারদের ওপর দোষ দিয়ে দেন, এটাও স্ট্র্যাটেজিগত ভুল মনোভাব। তারপর গতবার এসে থেকেই তিনি সবসময় অজুহাত দিয়ে গিয়েছেন। একটা সেট দল বাছাই করতে হিমসিম খেয়ে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ধোনির মেন্টর হওয়া নিয়ে বিতর্ক, উঠল স্বার্থের সংঘাতের মতো গুরুতর অভিযোগ
সেদিক থেকে রিয়ালের যুব দলের কোচ স্যামুয়েল দিয়াজ কার্যকরি কোচ হবেন সন্দেহ নেই। তিনি অ্যাকাডেমি কোচ হতে পারেন, তবে একটা ঘরানার সঙ্গে বহুদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন, তাঁর হাত ধরে ফুল ফুটতেই পারে লাল হলুদে।
গতবার ফাউলার কোচ হিসেবে যে ফুটবলারদের নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা কেউই দক্ষ নয়, পড়ন্তবেলায় এসেছিলেন তারকারা। একমাত্র স্টেনইম্যান ও ব্রাইট ছাড়া কেউ ভাল বিদেশী ছিল না। সেই সমস্যা এবার থাকবে না, মনে করা যায়। নয়া কোচ স্প্যানিশ দক্ষ ফুটবলার নিয়ে আসবেন, বলাই যেতে পারে। তিনি যদি অ্যাকাডেমিরও ফুটবলার আনেন, সেটিও ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে দারুণ বিষয় হবে।
একটা কথা বলতে চাই, ফাউলার কোচ হলে ইস্টবেঙ্গল পিছনের দিকে হাঁটত। ফাউলারের দেওয়ার কিছু ছিল না, তিনি অযোগ্য সাপোর্টিং স্টাফদের নিয়ে এসে ভিড় করেছেন, কাজের কাজ কিছু হয়নি। দিয়াজ আসায় সমর্থকরাও স্বস্তি পাবেন ভাল কিছু দেখার আশায়। আমারও মন বলছে, যতই ইস্টবেঙ্গল দেরিতে দলগঠন শুরু করুক না কেন, আইএসএলে জমজমাট পারফরম্যান্সই করবে নতুন হেডস্যারের হাত ধরে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'