তাঁর আচরণ কেবল অসম্মানজনকই ছিল না, বরং বৈষম্যমূলক এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রদর্শনও ছিল।

লভলিনা বরগোঁহাই
শেষ আপডেট: 7 August 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে অলিম্পিক্সে পদকজয়ী কুস্তিগীররা ভারতীয় রেসলিং ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই বিরোধ দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। যার রেশ এখনও রয়ে গিয়েছে। এবার ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশনের (BFI) বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেন অলিম্পিক্স পদকজয়ী বক্সার।
টোকিও অলিম্পিক্স গেমসে ভারতের হয়ে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন অসমের বক্সার লভলিনা বরগোঁহাই (Lovlina Borgohain)। তিনি ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশনের (বিএফআই) নির্বাহী পরিচালক (Executive Director) অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অরুণ মালিকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। লভলিনার অভিযোগ, অরুণ মালিক তাঁর সঙ্গে অবমাননাকর এবং লিঙ্গ-বৈষম্যমূলক (Gender Bias) আচরণ করেছেন।
২৭ বছর বয়সি এই বক্সার ২ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে লেখা আছে, “৮ জুলাই জুম বৈঠকে কর্নেল মালিক আমার সঙ্গে অপমানজনক এবং অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।”
টাইমস অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) এই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু করেছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটিতে রয়েছেন টপসের সিইও নচত্তর সিং জোহাল, প্রাক্তন টেবল টেনিস খেলোয়াড় শরৎ কমল এবং একজন মহিলা আইনজীবী।
লভলিনা ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য, সাই ডিজি টপস, আইওএ এবং বক্সিং ফেডারেশনের কাছে ২ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “জুম মিটিংয়ের পর আমি গভীরভাবে আহত, দুঃখিত এবং হতাশ বোধ করছিলাম। আমি ভাবতে শুরু করলাম, আমরা মহিলা ক্রীড়াবিদরা কি সত্যিই সম্মানের যোগ্য বলে বিবেচিত হই? আমি এই চিঠিটি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ হিসাবে লিখছি না, বরং একজন মহিলা হিসাবে লিখছি, যিনি বছরের পর বছর ধরে বক্সিং রিংয়ে দেশের আশা বহন করে চলেছেন। ৮ জুলাই, বিএফআই এবং টপসের মধ্যে একটি বৈঠকে কর্নেল মালিক আমার দিকে চিৎকার করে বলেন, চুপ থাক, মাথা নিচু করে থাক। আমাকে তাঁর নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর আচরণ কেবল অসম্মানজনকই ছিল না, বরং বৈষম্যমূলক এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রদর্শনও ছিল।”
লভলিনার অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে কর্নেল অরুণ মালিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আমার মানহানি করা হচ্ছে।” সেই সঙ্গে অরুণ জানিয়েছেন, বৈঠকে লভলিনা দু’টি দাবি করেছিলেন। প্রথমটি ছিল হাঙ্গেরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া। লভলিনা বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রশিক্ষণের জন্য হাঙ্গেরিতে যেতে চেয়েছিলেন। তখনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ে আমি বলেছিলাম, দল ঘোষণার পরে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। এতে সমস্যা হল আয়োজক কমিটির (ব্রিটেন বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন) ভিসার জন্য ২০টি কর্মদিবসের প্রয়োজন। সেখানে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। যদি আপনি হাঙ্গেরির জন্য এটি করেন, তাহলে ব্রিটেনের ভিসার জন্য সমস্যা হতে পারে।”
লভলিনার দ্বিতীয় দাবি ছিল, একজন ব্যক্তিগত কোচ ও ফিজিওকে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। অরুণ মালিক বলেছেন, “জুম কলে তাঁর ব্যক্তিগত কোচও সংযুক্ত ছিলেন। আমরা লভলিনাকে বলেছিলাম, সরকার এবং বিএফআইয়ের নিয়ম অনুসারে, বক্সিংয়ে ব্যক্তিগত কোচের অনুমতি নেই। একজন কোচকে কমপক্ষে পাঁচজন বক্সারকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এই বিষয়ে লভলিনা বলেন, পিভি সিন্ধু তাঁর সঙ্গে একজন ব্যক্তিগত কোচ নিয়ে যান। এরপরই সাই-এর কর্মকর্তা বলেন, এই তথ্য ভুল। তিনি ক্যাম্পের কোচের কাছ থেকেও প্রশিক্ষণ নেন।”
অরুণ বলেন, “বৈঠকের একদিন পর লভলিনা অভিযোগ করেন। দুই দিন পর একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান হিসাবে টপসের সিইওও রয়েছেন। আমি সাই-কে দু’টি চিঠি লিখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখনও প্রতিবেদনটি আসেনি।”