
শেষ আপডেট: 1 August 2022 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা তথাকথিত অনেক নিয়ম ভেঙে দিয়ে নিজের মত করেই নিজের জীবনের লড়াই লড়ে যাচ্ছেন। তাঁরা প্রচারের আড়ালেই থেকে যান। তবে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তেমন অনেক খবর চলে আসছে সামনে।
তেমনই পাকিস্তান (Pakistan) লাহোরের এক তরুণী মীরাব (Meerab)। তিনি কেএফসির (KFC) ডেলিভারি গার্লের কাজ করেন। ‘ডেলিভারি বয়’ শব্দটা পরিচিত হলেও ‘ডেলিভারি গার্ল’ (Delivery Girl) শব্দটা মোটেও খুব একটা পরিচিত নয়। তাতে আবার পাকিস্তানের মত দেশে এ তো প্রায় অসম্ভবের মত।
ফিজা ইজাজ নামের তরুণী সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মীরাবের জীবন যুদ্ধের কথা। তিনি লিখেছেন, ‘কেএফসিতে খাবার অর্ডার করেছিলাম। যখন ডেলিভারির জন্য ফোন এল, তখন ওপাশ থেকে কথা বলে উঠলেন একটি মেয়ে। মেয়ের গলা শুনে আমি এবং আমার বন্ধুরা ভীষণ উৎসাহী ছিলাম তাঁকে দেখার জন্য। মীরাব আসার পর আমরা প্রায় তাঁর সঙ্গে ১০ মিনিট ধরে কথা বললাম। তাঁর পড়াশোনা, পরিবার সবকিছু নিয়েই কথা হয় আমাদের। বর্তমানে তিনি ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছে। নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য সকালে কলেজ করে রাতে এই ডেলিভারি গার্লের কাজ করেন তিনি। জতদিন না পর্যন্ত তাঁর স্নাতক পড়া শেষ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই কাজ করবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। পড়া শেষ হলে নিজের একটা ফ্যাশন ব্র্যান্ড খুলতে চান মীরাব’।

পরে নিজের পোস্ট এডিট করে ফিজা লিখেছেন, ‘যদিও তাঁর পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নিয়েছে একটা সামাজিক সংগঠন। এখন মীরাব মায়ের চিকিৎসার জন্য পয়সা জোগাড় করছে এইভাবেই’।
পাকিস্তান কেএফসির প্রধান আসমা ইউসুফ ফিজা’র পোস্টে কমেন্ট করেছেন, ‘মীরাবের জন্য আমরা গর্বিত। মীরাব শুধু আমাদের কোম্পানির ডেলিভারি গার্ল নয়, সে কেএফসির মহিলাদের উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ পেয়ে তার পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে’। মীরাবের সাহস ও লড়াইকে সম্মান জানিয়েছেন নেট নাগরিকরা। এই পোস্টের কমেন্টে ভেসে আসছে অজস্র প্রশংসার বন্যা।
কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, রাগে কর্মক্ষেত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন কানাডার প্রৌঢ়