২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, BPA-র মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসায় স্তন ক্যানসার-সহ নানা গুরুতর অসুখের সম্ভাবনা বাড়ে। থার্মাল রসিদে এই বিসফেনল জাতীয় কেমিক্যাল থাকে কালি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য।

এই ধরনের বিল থেকেই ছড়াচ্ছে বিষ
শেষ আপডেট: 4 August 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেস্তরাঁয় খেয়ে বেরোনোর সময় বিল নিলেন, কিংবা এটিএম থেকে টাকা তুলে রসিদ বের করলেন, দেখতে সাধারণ এই কাগজটাই শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দিতে পারে চুপিচুপি! গবেষণা বলছে, এই সব থার্মাল রসিদে থাকে এক ভয়ঙ্কর বিষাক্ত রাসায়নিক, বিসফেনল এস (Bisphenol S)। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ত্বকের মধ্যে দিয়ে শরীরে ঢুকে যেতে পারে এটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসফেনল এস এক হরমোন বিকৃতকারী রাসায়নিক, যা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো আচরণ করে। এর ফলে বিপর্যস্ত হতে পারে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকক্রিয়া, এমনকি প্রজনন ক্ষমতাও। আগে বিখ্যাত ছিল বিসফেনল এ (BPA), এখন তারই 'জমজ ভাই' বিসফেনল এস এসেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে।
২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, BPA-র মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসায় স্তন ক্যানসার-সহ নানা গুরুতর অসুখের সম্ভাবনা বাড়ে। থার্মাল রসিদে এই বিসফেনল জাতীয় কেমিক্যাল থাকে কালি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, BPA ফ্রি পণ্য বানাতে গিয়ে তার বদলে BPS ব্যবহারের চল শুরু হয়েছে, সেটিও সমানভাবে ক্ষতিকর।
সম্প্রতি সেন্টার ফল এনভায়নমেন্টাল হেলথ (CEH) নামের এক মার্কিন পরিবেশবিষয়ক সংস্থা অন্তত ৫০টি বৃহৎ খুচরো বিপণি সংস্থাকে সতর্কতামূলক নোটিস পাঠিয়েছে। তালিকায় রয়েছে বার্গার কিং, চ্যানেল, ডলার জেনারেল-এর মতো নামও। তাঁদের বক্তব্য, মাত্র কয়েক সেকেন্ড রসিদে হাত রাখলেই, নিরাপদ মাত্রার থেকেও বেশি বিপিএস শরীরে ঢুকে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
এই রসিদগুলি নিয়মিত ছুঁয়ে কাজ করেন যে সব দোকান বা রেস্তরাঁর কর্মীরা, তাঁদের শরীরে বিষ ঢোকার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এমনকি, যদি কেউ রসিদ ধরার আগে অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন, তাহলেও রাসায়নিকের শোষণ বেড়ে যায়।
কী করণীয়?
পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ লিওনার্দো ট্রাসান্ডে। তিনি বলেন, 'অনেকেই জানেন না যে এই থার্মাল রসিদ আসলে প্লাস্টিক কোটেড পেপার।'
তাঁর মতে—
যে বিল আমরা অবহেলায় পকেটে ভরে রাখি বা ওয়ালেটে গুঁজে রাখি, সেটাই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের অসুস্থতার কারণ। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন।