.webp)
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 5 June 2024 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে সবুজ ঝড় লোকসভা ভোটের ফলে। তৃণমূল ২৯, বিজেপি ১২ এবং কংগ্রেস ১টি মাত্র আসন পেয়েছে। এটা নতুন কোনও তথ্য নয়, বাংলার মানুষের কাছে। কিন্তু, কোন দলের প্রতি কত মানুষের সমর্থন আছে, তা জানেন কি? কারা পেয়েছে কত শতাংশ ভোট?
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেদিকে। সাত দফার ভোটে রাজ্যের ভোটফলে ফরওয়ার্ড ব্লক পেয়েছে ০.২৪ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪৫.৭৬ শতাংশ, বিজেপি ৩৮.৭৩, বহুজন সমাজ পার্টি ০.৩৮, সিপিআই ০.২২, সিপিএম ৫.৬৭ শতাংশ, লিবারেশন ০.০১, কংগ্রেস ৪.৬৮, নোটা ০.৮৭ এবং অন্যান্য ৩.৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এই অবস্থায় বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে বামফ্রন্ট। বিশেষত সিপিএম। সিপিএমই একমাত্র দল যারা ১৯৫১ সালের প্রথম ভোট থেকে একই প্রতীকে লড়ে যাচ্ছে। কিন্তু, এবার প্রাপ্ত ভোট শতাংশের হারে সিপিএম কি তার নির্বাচনী প্রতীক কাস্তে, হাতুড়ি, তারা হারাতে চলেছে, সংশয় দেখা দিয়েছে তা নিয়েই।
কোন দল জাতীয় দলের মর্যাদা পাবে তা নিয়ে একটি বিধিসম্মত নির্দেশিকা রয়েছে। নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও প্রদান) নির্দেশ, ১৯৬৮। তাতে তিনটি শর্ত আরোপ করা আছে। প্রথমটি হল, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে সেই দলকে অন্তত চারটি অথবা তার বেশি রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এবং সেই দলের অন্তত চারজন লোকসভা সদস্য থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, লোকসভা আসনের অন্তত ২ শতাংশ আসন এবং নিদেনপক্ষে তিনটি রাজ্য থেকে প্রতিনিধি থাকতে হবে। তৃতীয়ত, অন্তত চারটি রাজ্যে আঞ্চলিক দলের স্বীকৃতি থাকতে হবে। সেই হিসেবে কেরলে এবার লোকসভা ভোটে মাত্র একটি আসনে জিতেছে সিপিএম। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় শূন্য। সিপিএমের বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকার সময় ২০০৪ সালে লোকসভায় সিপিএমের এমপি ছিলেন ৫৯ জন। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরলে যায় যায় অবস্থা। ইতিমধ্যেই সিপিআই জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে। এবার কি তবে সিপিএমের পালা?
লোকসভা ভোটের কিছুকাল আগে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একে বালন বলেছিলেন, এবারের ভোট পার্টির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাস্তে, হাতুড়ি, তারাকে দলের হাতে গচ্ছিত রাখতে হলে নির্ধারিত ভোট শতাংশের হার অথবা এমপি পদে জিততেই হবে। যদি তা না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুঝতে হতে পারে।
তাঁর কথায়, বাম প্রার্থীরা জিততে না পারলে আমাদের তখন নির্দল প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ প্রতীক বাছতে হতে পারে। মজা করে তিনি বলেন, প্যাঙ্গোলিন, ইঁদুর কল, বিছে অথবা অক্টোপাসও হতে পারে নির্বাচনী প্রতীক। সেক্ষেত্রে কমিশনের দেওয়া প্রতীকেই লড়তে আমরা বাধ্য।