
শেষ আপডেট: 25 July 2018 17:42
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। জিটি রোড, বিশ্ববিখ্যাত গ্র্যান্ট ট্রাঙ্ক রোড। এই সুদীর্ঘ রাস্তা শুধুই একটা পরিবহণের মাধ্যম নয়। ঐতিহাসিক এই রাস্তা যেন অসংখ্য সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্মের মেলবন্ধনেরও সূত্র। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়ে, উত্তর-ভারতকে আড়াআড়ি চিরে পাকিস্তান পেরিয়ে আফগানিস্তানের কাবুলে গিয়ে শেষ হওয়া এই রাস্তার বাঁকে বাঁকে মিশে আছে বৈচিত্র্য। তাই এই রাস্তার নামেই যখন রেস্তরাঁর নামকরণ, তখন আন্দাজ করাই যায়, সে রেস্তরাঁ বৈচিত্র্যের নিরিখে বেশ সামনের দিকে থাকবে।
রেস্তরাঁর নাম জিটি রুট। পার্ক সার্কাস-মল্লিকবাজার ক্রসিংয়ে অবস্থিত এ রেস্তরাঁয় বাঙালি খাবার থেকে শুরু করে অমৃতসরী, আওয়াধি, আফগানি— অর্থাৎ জিটি রোড সংলগ্ন বিভিন্ন সংস্কৃতির সব রকমের খাবারই মিলবে। তা সে মাছের ঝোল হোক, বা অমৃতসরি ফিশ, বা আফগানি নান।
এ রকমই নানা প্রদেশের স্বাদ নিয়ে একটি উৎসবের আয়োজন করতে চলেছে জিটি রুট। তবে এই উৎসব মাতাবে শুধুই নানা রকমের কাবাব। সঙ্গে থাকবে রকমারি পরোটা। ২৭ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই উৎসবে গিয়ে পৌঁছতে পারলে দু’জনের পেট ভরা কাবাব-পরোটা মিলবে ৬০০ টাকা খরচ করলেই (কর অতিরিক্ত)। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল চারটে, এবং সন্ধে সাতটা থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত প্রতিদিন মিলবে এই উৎসবে যোগ দেওয়ার সুযোগ।
রেস্তরাঁর এগজিকিউটিভ শেফ রামপ্রসাদ মজুমদার বলছেন, কাবাব ব্যাপারটা সাধারণত স্টার্টার হিসেবেই পরিচিত। “কিন্তু আমরা চাইছি, কাবাবপ্রেমীরা যাতে কাবাব দিয়েই পেট ভরাতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে। তাই প্রতিটা কাবাবের সঙ্গে আমরা বিভিন্ন রকমের পরোটা সার্ভ করব। সঙ্গে থাকবে চাটনি, স্যালাড। মনও ভরল, পেটও ভরল।”—বললেন রামপ্রসাদবাবু। এছাড়াও কাবাব বলতেই যে মাংসের কথাই সবার আগে আসে, সেই ধারণটাও ভাঙতে চলেছে এই উৎসবে। থাকবে বিশেষ কাবাব-ডিশ, ‘সমুন্দরি তাজ’। যার মূল আকর্ষণ নানা রকম সি-ফুডের কাবাব। থাকবে পমফ্রেট মাছের কাবাবও। হতাশ হবেন না নিরামিষাসীরাও। নানা রকম সবজি, পনির, চানা—এসবেরও কাবাব থাকবে উৎসবে।
[caption id="attachment_21859" align="alignnone" width="769"]
শেফ রামপ্রসাদ মজুমদার[/caption]
রেস্তরাঁর ফুড ম্যানেজার গৌতম বিশ্বাস বলছেন, “আমরা চাই মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পরীক্ষা করতে। এমনিতে কাবাব সকলেরই প্রিয়, কিন্তু অনেকেই পেট ভরে খেতে পারেন না মেনকোর্স খেতে হবে ভেবে। সেই ধারণায় বদল আনতেই এই চেষ্টা আমাদের। পরোটা আর কাবাবের যুগলবন্দি। আর অবশ্যই সেটা মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ না দিয়ে। সকলে উৎসবে আসুন। ভাল লাগবে।”
শুনে নিন, কী বলছেন রামপ্রসাদবাবু এবং গৌতমবাবু।
https://www.youtube.com/watch?v=zuq3f8wurMI
তা হলে উৎসব চলতে চলতে কোনও এক বর্ষার দুপুরে হানা দেওয়াই যায় এই জিটি রুটে। মন ভাল করবে ইনটেরিয়র ডেকরেশনে ছাপ ফেলা ইতিহাসের মাইলস্টোনগুলো। স্টাফেদের ব্যবহারও মন কাড়তে বাধ্য। সেই সঙ্গে হরেক রকম কাবাবের বাহার তো রয়েইছে। চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক উৎসবের মেনুতে।
