
শেষ আপডেট: 10 December 2020 08:16
অনেকক্ষেত্রে ত্বক ভীষণ রুক্ষ হয়ে যায়। ত্বকে রিঙ্কেলস দেখা যায়, ত্বকের জেল্লা কমে যায়। যদিও, বিভিন্ন কারণে ত্বকের বয়স বেড়ে যেতে পারে, এটা খুবই জটিল বিষয়। অনেক সময় বয়সের থেকে বেশি মনে হয় ত্বকের বয়স। বয়সের আগেই বুড়িয়ে যায় অনেকে। বেশিরভাগ সময়ই বয়স বেড়ে যাওয়া নির্ভর করে আলাদা আলাদা জিন ও প্রোটিনের ওপরে। তবে, শারীরিক, জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বহুকারণেই বার্ধক্য আসতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা সমস্যা, ডায়েট ও জীবনযাত্রার জন্যও বয়সের ছাপ ধরা পড়ে যায় চেহারাতে।
যোগব্যায়াম, ওষুধ, ভিটামিন, হরমোন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের থেকে ত্বককে অনেকবেশি লড়াই করতে হয় বাইরের প্রকৃতির সঙ্গে। ত্বক শরীরকে যে কোনও সংক্রমণ থেকে, শরীরে জলের ঘাটতি থেকেও রক্ষা করতে সহায়তা করে। ত্বকের বয়স বেড়ে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ হল সূর্যের রশ্মি। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে ত্বকে ইলাস্টিন উৎপাদন করে, যা ত্বকের তন্তুগুলোর ক্ষতি করে। ইলাস্টিন ফাইবারগুলোকে ভেঙে দেয়। ফলে ত্বকের জেল্লা যেমন কমে যায়, তেমনই ত্বকের স্বাভাবিকভাবে ইলাস্ট্রেশনের ক্ষমতাও হারিয়ে যায়।
বাজারে অনেকধরনের অ্যান্টি এজিং ক্রিম বা পণ্য পাওয়া যায়। যেগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল যা ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করে দেয় আরও। অনেক সময় বয়সের ছাপকে তাড়াতাড়ি কমানোর জন্য অনেকেই ঝোঁকেন বাজার চলতি পণ্যের দিকে কিন্তু এগুলো ত্বকের ক্ষতি করে। অনেকক্ষেত্রে ত্বক পুড়েও যায়, মুখে দাগ হয়ে যায়। তাই কেমিক্যাল যুক্ত পণ্য এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন চর্মবিশেষজ্ঞ ডঃ অজয় রানা।
কয়েকটি উপায় বাতলে দিয়েছেন ডঃ রানা যা কমিয়ে দিতে পারে চেহারাতে পড়া বার্ধক্যের ছাপকে:
১. প্রতিদিন ২-৩ লিটার জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে ত্বকও ভাল থাকে। ত্বকের জেল্লা বেড়ে যায়।
২. নিয়মিত যোগব্যায়াম অভ্যাস করা প্রয়োজন। তাহলে ধৈর্য বাড়ে। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি হয়, মন ভাল থাকে। হতাশা কমে যায় আর অনেক বেশি করে সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকা যায়। ফিরে আসে ত্বকের লাবণ্য।
৩. মাছের তেলে ওমেগা ৩ , ফ্যাটি অ্যাসিড, ইপিএ, ডিএইচএ থাকে। এটা ত্বক, চুল, নখকে মজবুত করে ও স্মৃতিশক্তিকে বাড়িয়ে তোলে।
৪. গ্লুটাথিয়নকে দেহের মাস্টার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বলা হয়। এটা অ্যান্টি এজিংয়ের বিরুদ্ধে খুব ভাল ভাবে কাজ করে।
৫. ধূমপান বন্ধ করতে হবে। এটা ত্বকের জেল্লা নষ্ট করে দেয়। ত্বককে নিস্তেজ করে দেয়, ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়।
৬. অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটা ত্বকের জন্য খুবই খারাপ। ত্বককে ডিহাইড্রেট করে ত্বকের ক্ষতি করে।
৭. প্রতিদিন ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো দরকার। এটা ত্বককে সিক্ত রাখে। চেহারাকে উজ্জ্বল করে তোলে।