
নিপ্রো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে হামলা
শেষ আপডেট: 23 March 2024 20:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাবা হচ্ছিল, হয়ত কয়েকদিনের স্বস্তি। কিন্তু আবারও খবরে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ। এবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর একনাগাড়ে হামলা শুরু করল রাশিয়া। অন্তত সাম্প্রতিককালের মধ্যে আড়েবহরে যা অন্যতম বৃহৎ!
সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর, শুক্রবার গভীর রাত থেকেই একের পর এক ইউক্রেনীয় শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নাগাড়ে আকাশপথে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। যার ফলে একের পর এক ছোট-বড় শহর ডুবে যায় অন্ধকারে। অন্তত পাঁচ জনের প্রাণহানির খবর এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে। ইউক্রেনের শক্তিমন্ত্রক সূত্রে খবর, নিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত জাপোরিৎঝিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর আকাশপথে হামলায় পরিকাঠামোর বেশ কিছু ক্ষতি তো হয়েছেই, পাশাপাশি আরও একটি কারণে ঘুম ছুটেছে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তাদের। এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাহায্যেই নিকটস্থ জাপোরিৎঝিয়া পরমাণু শক্তিকেন্দ্রে শক্তি সহায়তা করা হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই পরমাণু কেন্দ্রকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। আবারও এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন ইউরোপের পরমাণু বিশেষজ্ঞরা।
কিভের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ, শুধু খারকিভ বা জাপোরিৎঝিয়া নয়, পাশাপাশি লিভিভ, ওডেসা, ভিনিৎসিয়া, পোলতাভার মত একাধিক ছোট-বড় শহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হওয়ায় প্রবল সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো ফেসবুকে লিখেছেন, 'সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্যতম বড় আকারের আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া।' সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও অবধি পাওয়া যাচ্ছে খারকিভ থেকে। প্রায় গোটা শহরটাই চলে গিয়েছে অন্ধকারে, অন্তত ১৫ টি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে।
এপি সূত্রের খবর, রাশিয়া অন্তত ৯০ টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০ টি বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, তারা ইউক্রেনের আক্রমণের জবাব দিতেই হামলা করেছে। বিগত কিছুদিন ধরেই রুশ সীমান্ত সংলগ্ন বেলগ্রদ অঞ্চলের কিছু এলাকায় ও তৈল শোধনাগারে ড্রোনের সাহায্যে আক্রমণ করেছিল ইউক্রেন। অন্তত একজনের নিহত ও তিনজন হতাহত হওয়ার খবর ছিল। রাশিয়ায় তখন ভোটের মরসুম। যাতে আবারও নিরঙ্কুশভাবে জিতে এসেছেন পুতিন। তিনি এই আক্রমণকে 'ভয় দেখানো' ও 'নির্বাচন বানচাল করার ছক' বলে দাবি করেছিলেন। এও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া এর জবাব দেবেই।
সেই জবাবই এল বলে মনে করা হচ্ছে এবার।