
শেষ আপডেট: 30 December 2023 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬/১১ মুম্বই হানার ঘটনায় মূলচক্রী হাফিজ সঈদকে ভারতে ফেরানোর জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের চিঠি পৌঁছেছে পাকিস্তান সরকারের কাছে। শুক্রবার পাক সরকারের বিদেশমন্ত্রক চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছে। তবে হাফিজকে ফেরানো হবে কিনা তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে পাক সরকারের কথায়।
বৃহস্পতিবারই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে ইসলামাবাদের কাছে হাফিজের প্রত্যর্পণের অনুরোধের চিঠি পাঠানো হয়। পাক সরকারের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছেন, ভারত সরকারের অনুরোধ এসেছে। আমরা সেটা গ্রহণ করেছি। আর্থিক তছরুপ মামলায় হাফিজকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই।
পাক বিদেশমন্ত্রক হাফিজকে ভারতে পাঠানো নিয়ে কী পদক্ষেপ করে তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের কথায়, বিষয়টি সহজ নয়। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, 'একটি নির্দিষ্ট মামলায় হাফিজ সঈদকে প্রত্যপর্ণ চাইছে ভারত। পাকিস্তানের কাছে এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথিও পাঠানো হয়েছে।'
ভারতের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই নাম রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজের। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও ভারতের তরফে তাকে কোনওরকম শাস্তি দেওয়া যায়নি। দিল্লি থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে পাকিস্তানের কাছে অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। কিন্তু ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সঠিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় হাফিজকে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হয়নি।
অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী যদিও তার লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং জানিয়েছে মুম্বই হামলার সঙ্গেও তার কোনও যোগ নেই। তবে পাকিস্তান সরকার হাফিজকে একাধিকবার গ্রেফতার করেছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রথমবার গ্রেফতার করা হয় হাফিজকে। ২০২২ সালে হাফিজ সাইদের ছেলে তালহা সাইদকে ইউএপিএ আইনের অধীনে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করে ভারত সরকার।