ইরানে ‘হল্লা বোল’ করে দিয়ে এখন হাত কামড়াচ্ছে ইজরায়েল।

‘অ্যারো’ অস্ত্রের রসদে কম পড়েছে।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে ‘হল্লা বোল’ করে দিয়ে এখন হাত কামড়াচ্ছে ইজরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাঁড়ারে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ‘অ্যারো’ অস্ত্রের রসদে কম পড়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট পরিমাণে অ্যারো এখন নেই ইজরায়েলের কাছে। মার্কিন এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদে বলা হয়েছে, এই অবস্থায় ইরানের ফতেহ ১-সহ ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে নষ্ট করার মতো অ্যারোর শক্তি কমে আসায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রের।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইজরায়েলকে সাহায্য করতে অথবা সরাসরি যুদ্ধে নামতে পদক্ষেপ করছে আমেরিকাও। পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী মাঝআকাশে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরতে সক্ষম প্রচুর ট্যাঙ্কার এনে রাখায় উত্তেজনা আরও চরমে উঠেছে। সংবাদে প্রকাশ, গত কয়েকদিনের ভিতর ৩০টির বেশি ট্যাঙ্কার এসে গিয়েছে। এর ফলে ইজরায়েলি যুদ্ধ বিমানের উড়ানের সময় এবং দূরত্ব অতিক্রমের ক্ষমতা বেড়ে যেতে সাহায্যে আসবে। সিএনএনের এক প্রতিনিধি লিখেছেন, এই ক্ষমতা ছাড়া ইজরায়েলের জেট বিমান খুব কম সময়ের জন্য ইরানের আকাশে থাকতে পারবে। ইজরায়েলের নিজের এ ধরনের ট্যাঙ্কার থাকলেও যে পরিমাণে যুদ্ধবিমান নেমেছে, তাতে তা কম পড়বে।
ইতিমধ্যেই ইরান প্রত্যাঘাতের জন্য ৩৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকশো ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলের বুকে। সেগুলিকে বিকল করতে ইজরায়েলও প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অ্যারো চালিয়েছে। শুধু এই যুদ্ধেই নয়, গত দু-তিন বছর ধরে হামাস, হুতি, হিজবুল্লা ও আইসিস জঙ্গি নিকেশে ইজরায়েল মুঠো মুঠো এই অস্ত্র ব্যবহার করায় এবার তাদের ভাঁড়ারের রসদ কমে এসেছে। ইজরায়েলের এই দৈন্যদশার কথা অনেক আগে থেকে জানত আমেরিকা। তারাও ইজরায়েলকে আকাশযুদ্ধে শক্তি জোগাতে কাজ করে চলেছে গত কয়েক মাস ধরে। কিন্তু, এখন শোনা যাচ্ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও এই সমস্যা ভুগছে। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি খবর অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র মারছে, তাতে আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন ইজরায়েল তাদের আকাশযুদ্ধ সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, এই সপ্তাহের শেষাশেষি ইজরায়েলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কোনটিকে তারা ধরাশায়ী করবে, কোনটিকে জমিতে পড়তে দেবে। সেক্ষেত্রে খোলা জমিতে পড়তে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে তারা ছাড় দিতে চলেছে। কিন্তু, জনবসতি এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান, তাহলে কী করবে ইজরায়েল, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।