
চিনের শুল্কনীতির মধ্যে পড়বে কৃষি সামগ্রী থেকে খাদ্যদ্রব্য।
শেষ আপডেট: 4 March 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখের বদলা চোখ, দাঁতের বদলে দাঁতের নীতি নিল কমিউনিস্ট চিন। মঙ্গলবার চিনের অর্থ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে মার্কিন পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কথা জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এদিন থেকে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার চিনের উপর অতিরিক্ত শুল্কনীতি বসাচ্ছে। তারই পাল্টা বিবৃতিতে চিনের তরফে বলা হয়েছে, কোনও পণ্যের উপর ১০ শতাংশ, আবার কোনও পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্কবৃদ্ধি করা হবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে তা কার্যকর হবে।
আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের পাল্টা হিসাবে এবার বেশ কিছু আমেরিকান পণ্যের উপর চিনও অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই তালিকায় আছে যেমন খাদ্যপণ্য, তেমনই রয়েছে বস্ত্রও। চিনের অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনের শুল্কনীতির মধ্যে পড়বে কৃষি সামগ্রী থেকে খাদ্যদ্রব্য। মার্কিন পণ্য যেম সোয়াবিন, জোয়ার, শূকরের মাংস, সামুদ্রিক উৎপাদন, ফল, সবজি এবং দুগ্ধজাতীয় সামগ্রীতে আমেরিকার উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে চিন।
চিনা অর্থ মন্ত্রক বলেছে, মুরগির মাংস, গম, ভুট্টা এবং সুতির উপরে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপছে আমেরিকার পণ্যে। রয়টার্সের খবর বলছে, এছাড়াও চিন ২৫টি মার্কিন কোম্পানির রফতানি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকেই আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক বসছে চিন, মেক্সিকো ও কানাডার উপর। পূর্ব ঘোষিত হলেও ঠিক সেদিনই চিনও আমেরিকার পণ্যে অতিরিক্ত ১০-১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যযুদ্ধের ফিতে কেটে দিল।
প্রসঙ্গত, গত সোমবারই কানাডাও আমেরিকা থেকে আমদানি করা পণ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করে দিয়েছে। কানাডারই পথ অনুসরণ করে চিন ১০ মার্চ থেকে নয়া শুল্কনীতি শুরু করতে চলেছে। আমেরিকার পাল্টা হিসাবে কানাডা সরকার আনুমানিক ১৫৫ বিলিয়ন কানাডার ডলারের আমদানি শুল্ক বসিয়েছে এদিন থেকেই। দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সোমবারই জানিয়ে দেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে কানাডাও মার্কিন পণ্যে ২৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক নেবে।