শীতে ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আরাম পেতে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কখন বুঝবেন এবার ডাক্তার দেখাতেই হবে (When to see a doctor for flu)?

শেষ আপডেট: 14 January 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়েই শীতের প্রকোপে কাঁপছেন মানুষ। তার মাঝেই কখনও একটু কম তাপমাত্রা, আবার কখনও হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়া। সব মিলিয়ে হঠাৎ তাপমাত্রার এই কিছু কিছু বদলেই বাড়ছে ফ্লু-জাতীয় সমস্যা (Winter flu) ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (respiratory infection)। রোগীদের মধ্যে যে উপসর্গগুলি (Winter flu symptoms) সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে - সর্দি, দীর্ঘদিন ধরে থাকা কাশি, জ্বর (বিশেষ হাই টেম্পারেচার), বুকে কফ জমা, গোটা গায়ে ব্যথা এবং ঘন ঘন মাথাব্যথা (When to see a doctor for flu)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ফ্লু-জাতীয় অসুখের প্রকোপ (winter illness) বাড়ার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করে। ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাপমাত্রা কমলে শরীরকে নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় (illness increase in winter)।
এছাড়া শীতকালে বাতাস সাধারণত শুষ্ক থাকে এবং আর্দ্রতা কমে যায়। এই ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালির ভিতরের মিউকাস মেমব্রেনকে শুকিয়ে দেয়, ফলে ভাইরাস সহজেই শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট ভাইরাস শীতকালে বেশি সক্রিয় থাকে, যার ফলে এই সময়ে সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
গাজিয়াবাদের মণিপাল হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট আমন কুমার জানাচ্ছেন, “গত এক মাসে ওপিডিতে ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আগের কয়েক মাসের তুলনায় এ বছর ফ্লুয়ের কেস অনেক বেশি। শীতকালে এমন প্রবণতা দেখা গেলেও, এ বছর বৃদ্ধি অনেকটাই চোখে পড়ার মতো।”
২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে সংক্রমণ
ডা. কুমারের কথায়, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন নিয়ে আসছেন। তার পরেই রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা-জাতীয় অসুখ, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, H1N1, পাশাপাশি RSV ও অ্যাডেনোভাইরাস সংক্রমণ।”
তিনি জানান, ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাড়ির ভিতরে জানলা-দরজা বন্ধ থাকায় কম হাওয়া চলাচল - এই সবকিছু মিলেই ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে।
রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে - কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা এবং মায়ালজিয়া (পেশির ব্যথা)।
দ্রুত সুস্থ হতে কী করবেন?
শীতে ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আরাম পেতে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
১) বিশ্রাম নিন ও পর্যাপ্ত জল খান
শরীরকে বিশ্রাম দিন এবং প্রচুর পরিমাণে জল খান। গরম পানীয়, যেমন হার্বাল চা বা স্যুপ - গলা ও শরীরের জন্য আরামদায়ক।
২) ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ
পেইনকিলার, ডিকনজেস্ট্যান্ট বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
৩) পুষ্টিকর খাবার
ফল ও সবজিতে ভরপুর সুষম খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাইট্রাস ফল বা শাকসবজি, বিশেষভাবে উপকারী।
৪) স্টিম ইনহেলেশন বা গরম ভাপ নেওয়া
ভাপ নেওয়া বুকে জমা কফ কমাতে এবং গলা ব্যথা উপশমে কার্যকর।
কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ডা. কুমার বলছেন, সাধারণ সর্দি আর ফ্লুর মধ্যে পার্থক্য বোঝা খুব জরুরি। “সাধারণ সর্দি সাধারণত ৩–৪ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু যদি তার সঙ্গে জ্বর থাকে, বুকের ব্যথা হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের আগে থেকেই কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুখ রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
শীতে অসুস্থতা এড়াতে যেসব সাবধানতা মানবেন
তাপমাত্রা যত নামছে এবং বাতাসের গুণমান যত খারাপ হচ্ছে, ততই এই সতর্কতাগুলি মেনে চলা জরুরি। সঠিক সাবধানতা নিলে শীতকালে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।