সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দৃষ্টিভঙ্গির বদলই বদলে দিতে পারে ফলাফল। মাত্র ২০ মিনিটের একটি মনস্তাত্ত্বিক ‘রিফ্রেমিং টুল’ ডিপ্রেশনকে দুর্বলতা নয়, বরং মানসিক শক্তি হিসেবে দেখতে শেখায়।

অবসাদ কাটানোর নতুন উপায়
শেষ আপডেট: 20 February 2026 15:01
দ্য ওয়ার্ড ব্যুরো: ডিপ্রেশন মানেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়া — এই ধারণা এখনও সমাজে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তাই অনেকেই অবসাদ কাটিয়ে ওঠার পরও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান না। লক্ষ্য স্থির করলেও এগোতে পারেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দৃষ্টিভঙ্গির বদলই বদলে দিতে পারে ফলাফল। মাত্র ২০ মিনিটের একটি মনস্তাত্ত্বিক ‘রিফ্রেমিং টুল’ ডিপ্রেশনকে দুর্বলতা নয়, বরং মানসিক শক্তি হিসেবে দেখতে শেখায়। আর তাতেই লক্ষ্যপূরণে বাড়ে সাফল্যের হার। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল Personality and Social Psychology Bulletin-এ। অস্ট্রিয়ার University of Vienna-র গবেষক Christina A. Bauer এবং তাঁর সহকর্মীরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন।
কী এই ‘রিফ্রেমিং’ টুল?
গবেষকরা ৭৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর তিনটি আলাদা পরীক্ষায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। সকলেই আগে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে ভুগেছেন এবং অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট গ্রহণ করেছিলেন। ২০ মিনিটের একটি সেশনে অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু লেখা পড়তে দেওয়া হয়, যেখানে ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই করাকে সাহস, অধ্যবসায় ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এরপর তাঁদের নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে বলা হয়—কীভাবে ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই তাঁদের মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। এমনকি অন্য কাউকে পরামর্শ দেওয়ার ভঙ্গিতে লিখতে বলা হয়, যাতে নতুন চিন্তাভাবনা আরও দৃঢ়ভাবে মনে গেঁথে যায়।
ফল কী মিলল?
প্রথম পরীক্ষায় দেখা যায়, যারা এই রিফ্রেমিং অনুশীলন করেছিলেন, তাঁদের ‘সেলফ-এফিকেসি’—অর্থাৎ নিজের সক্ষমতার উপর বিশ্বাস—উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা দু’সপ্তাহের জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেন—যেমন সপ্তাহে তিনদিন ব্যায়াম করা বা কোনও অসমাপ্ত কাজ শেষ করা। দেখা যায়, রিফ্রেমিং করা গোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্যপূরণের প্রতিশ্রুতি বেশি। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দু’সপ্তাহ পর দেখা হয় রোগীর মানসিক অবস্থা কতটা পরিবর্তন হচ্ছে। দেখা যায়, যে গোষ্ঠী রিফ্রেমিং টুল ব্যবহার করেনি, তারা গড়ে ৪৩ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ করেছেন। অন্যদিকে রিফ্রেমিং গ্রুপ পৌঁছেছেন ৬৪ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি অগ্রগতি। গবেষকদের মতে, ডিপ্রেশনকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখা এবং সামাজিক কলঙ্কের ভার বহন করাই অনেক সময় সুস্থ হয়ে ওঠার পরও মানুষকে আটকে রাখে। এই মানসিক বাধা সরাতে পারলেই লক্ষ্যপূরণ সহজ হয়।
কেন একে ‘নতুন ডিভাইস’ বলা হচ্ছে?
এটি কোনও ওষুধ বা যন্ত্র নয়, বরং একটি মানসিক টুল। স্বল্পসময়ের, কম খরচের এবং সহজে প্রয়োগযোগ্য এই পদ্ধতি থেরাপি বা ওষুধের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন—ডিপ্রেশনের চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। তবে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও সামাজিক কলঙ্ক কাটাতে এই ‘স্ট্রেংথ-বেসড রিফ্রেমিং’ কার্যকর হতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে— যারা এই পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে ডিপ্রেশন ফিরে এলেও মানসিকভাবে অনেক বেশি দৃঢ় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ এটি ভবিষ্যতে অসুখের রিল্যাপ্স সামলাতে সহায়তা করবে। তবে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গবেষণাটি মাত্র দু’সপ্তাহের ফলাফল দেখেছে এবং অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী পশ্চিমা দেশ গুলি। দীর্ঘমেয়াদে বা ভিন্ন সংস্কৃতিতে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।