শেষ কথা—বাইচুং-এর অভিযোগ শুধু মুহূর্তের ক্ষোভ নয়; ভারতীয় ফুটবলের সংকটের কেন্দ্রে যে নেতৃত্ব, সেটাই তিনি স্পষ্ট করে দেখাতে চাইলেন।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলের ‘পতনের নেপথ্য নায়ক’ হিসেবে কল্যাণ চৌবের দিকে প্রকাশ্যেই আঙুল তুললেন বাইচুং ভুটিয়া। তাঁর অভিযোগ তীব্র ও সরাসরি—এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট নাকি সভাপতির চেয়ারে বসে আছেন একটাই কারণে: ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখা। বাইচুং-এর কথায়, ‘বিশ্বকাপ দেখা না-হওয়া পর্যন্ত সেই চেয়ার ছাড়ার প্রশ্নই নেই।’
এর আগে হায়দরাবাদে ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম: কানেক্টিং তেলঙ্গানা অ্যান্ড দ্য নর্থ ইস্ট’ প্যানেল আলোচনাতেও চাঁচাছোলা মন্তব্য করেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। সাফ জানান—ভারতীয় ফুটবল আজ যে জায়গায় নেমে এসেছে, তার জন্য প্রশাসনের গলদই দায়ী। আর সেই গলদের কেন্দ্রবিন্দু কল্যাণ চৌবে।
বাইচুং বলেন, ‘ভারতীয় ফুটবল তিন বছরে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ থেকে ১৪২–তে নেমেছে। কারণ নেতৃত্ব ভুল পথে। নির্বাচনে আমি হেরেছি ঠিকই, কিন্তু তখনই বলেছিলাম—যতক্ষণ প্রশাসন না ঠিক হবে, দল এগোবে না।’এরপরই তাঁর তীব্র অভিযোগ—‘কল্যাণ চৌবে শুধু বিশ্বকাপ দেখার জন্য প্রেসিডেন্ট। সেই টিকিট পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি চেয়ার ছাড়বেন না।’
শুধু সমালোচনা নয়, বাইচুংয়ের মতে—ফেডারেশন নেতৃত্ব বদলানো সময়ের দাবি। বলেন, ‘স্বাধীনতার ৭৫ বছরে একবারও উত্তর–পূর্ব থেকে এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট হয়নি। অথচ ফুটবলে উত্তর–পূর্বের অবদান অপরিসীম। এবার সভাপতির চেয়ার অবশ্যই উত্তর–পূর্বের কারও হাতে যাওয়া উচিত!’
প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গানার স্পেশাল চিফ সেক্রেটারি জয়েশ রঞ্জন, মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী পু লালংহিংলোভা হামার, কোচ পুলেল্লা গোপীচাঁদ, মীরাবাই চানু, সরিতা দেবী, মন্টু দেবনাথ-সহ বিভিন্ন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। সবাই একসুরে মেনে নেন—ভারতীয় ফুটবল চরম অধোগতি চলছে, আর এখন জরুরি নেতৃত্বের রিসেট।
মিজোরাম ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য—উত্তর–পূর্বের বিপুল প্রতিভাকে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনতে নতুন করে কাঠামো সাজানো প্রয়োজন। সরিতা দেবী, মীরাবাই চানু মেয়েদের স্পোর্টসে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গোপীচাঁদের কথায়, দেশের স্পোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং কোচিং সিস্টেমে বহু কাজ বাকি। তেলঙ্গানা–উত্তর–পূর্ব সংযোগের প্রেক্ষিতে জয়েশ রঞ্জন জানান—উত্তর–পূর্বের খেলাধুলার সাফল্য তাঁদের অনুপ্রেরণা। একইসঙ্গে ত্রিপুরার মন্টু দেবনাথ অ্যাকাডেমির গুরুত্ব নিয়ে বলেন—‘জিমন্যাস্টিক্সে উন্নতি চাইলে ভাল অ্যাকাডেমি বাধ্যতামূলক।’
শেষ কথা—বাইচুং-এর অভিযোগ শুধু মুহূর্তের ক্ষোভ নয়; ভারতীয় ফুটবলের সংকটের কেন্দ্রে যে নেতৃত্ব, সেটাই তিনি স্পষ্ট করে দেখাতে চাইলেন। আর সমাধান হিসেবে তুলে ধরলেন উত্তর–পূর্বকে সামনে আনার প্রস্তাব—ফেডারেশনের শীর্ষে নতুন, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ফুটবলসচেতন নেতৃত্বের দাবি।