
শেষ আপডেট: 20 December 2023 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বর মানেই উৎসবের মরশুম। হিমেল হাওয়ার পরশে আকাশে বাতাসে যেন ছুটির মেজাজ। বইমেলা থেকে সিনেমা উৎসব, কিংবা নাটক- এসব নিয়ে মেতে থাকেন মানুষজন। সেইসব নাট্যপ্রেমী মানুষজনের কথা ভেবেই গত ৩০শে নভেম্বর থেকে ৩রা ডিসেম্বর ২০২৩, চন্দননগর রবীন্দ্র ভবনে আয়োজন করা হয়েছিল 'জীয়নকাঠি নাট্যোৎসব ২০২৩'-এর। সৌজন্যে রানিকুঠি জীয়নকাঠি। চারদিন ব্যাপী এই নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হয় মোট ১১টি নাটক - দশটি একাঙ্ক ও একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন গ্ৰুপ থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক শ্রী দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট নাট্যকার শ্রী মৈনাক সেনগুপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে নাট্যদল অংশ নিয়েছিলে এই উৎসবে। প্রত্যেকটি দলই নিজেদের প্রযোজনায় নাটক মঞ্চস্থ করলেও জীয়নকাঠির নিজস্ব নতুন প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "বিসর্জন" নাটকটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে দর্শকমহলে। উৎসবের শেষ দিন চন্দননগরের বিশিষ্ট আলোকশিল্পী সিদ্ধার্থ শঙ্কর মণ্ডলকে জীয়নকাঠির তরফে সম্বর্ধিত করা হয়।চারদিনের এই নাট্যোৎসবটিকে আর্থিক সহায়তা করেছে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক (Ministry of Culture, Government of India)।
চারদিনের এই উৎসবের প্রথম দিনে প্রথম দর্শনে মঞ্চস্থ হয় মিউনাস কলকাতার 'দূষণ'। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন উৎসব দাস। এই নাটকের মাধ্যমে সামাজিক বার্তাও দিয়েছেন নির্দেশক। এরপর হরিপাল আশ্রমিকের 'থাপ্পড়' মঞ্চস্থ করা হয়। এটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন ভাস্কর দাস। তৃতীয় দর্শনে হরিপাল অন্য ভুবনের 'ভীমরতি' প্রদর্শিত হয়েছে। নীলরতন সামন্ত এই নাটকের রচনা ও নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম নাটক ছিল প্রত্যয়ী আসানসোলের প্রযোজনায়- উৎপল দত্তের বিখ্যাত 'মেঘ' নাটকের আদলে তৈরি 'দ্য পারফেক্ট মার্ডার'। এটির নির্দেশক অর্ঘ্য চক্রবর্তী। অভিনয়,মঞ্চ, আলোক সম্পাতের সঠিক প্রয়োগে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে এই নাটক। পরের নাটকটি ছিল দোমোহানী বাজার নাট্যসেনার 'শুভারম্ভ'। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত নাটক 'ভাড়াটে চাই' অবলম্বনে তৈরিছিলেন এই নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় মনোরঞ্জন সেন। টানটান হাস্যরসাত্মক এই প্রযোজনা দর্শকদের মন কেড়েছে। বিশেষত মঞ্চে যিনি গান গাইছিলেন তাঁর দরাজ গলার কদর না করলেই নয়। দ্বিতীয় দিনের শেষ দর্শনে ছিল থিয়েটার থিয়েটার নাট্যদলের 'তাহার নামটি রঞ্জনা'। নাটকটির রচয়িতা বিধায়ক ভট্টাচার্য ও নির্দেশনায় ছিলেন সুব্রত দে।
তৃতীয় দিনের প্রথম দর্শনে ছিল অনীক কলকাতার মনস্তাত্ত্বিক নাটক 'ঈশ্বর'। রচনায় সুদীপ্ত ভৌমিক ও নির্দেশনায় অরূপ রায়। এদিনের দ্বিতীয় নাটকটি ছিল সৈদাবাদ নবীন প্রযোজনা 'বাজাও তোমার একতারা', রচনা ও নির্দেশনায় পার্থপ্রতিম দাস। তৃতীয় দিন শেষ মঞ্চস্থ নাটকটি ছিল জীয়নকাঠির নিজস্ব প্রযোজনা। জীবনযুদ্ধে বিধ্বস্ত এক আত্মসন্ধানী মানুষের অপরাভবের নাটক 'আত্মরতি', যেটির রচনা অনুপ চক্রবর্তীর ও নির্দেশনায় ছিলেন কল্লোল মুখার্জ্জী। নাটকটি বিগত কয়েক বছর ধরে বহু প্রশংসিত ও বহু পুরষ্কৃত।
চতুর্থ তথা শেষ দিনের প্রথম দর্শনের প্রযোজনা ছিল আশিস সরদারের রচনা ও প্রযোজনায় উন্মেষ কালিকাপুরের 'ডঃ ওথেলো'। উৎসবের একদম শেষ নাটক ছিল জীয়নকাঠির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা 'বিসর্জন'। এটির সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। এই নাটকটি বেশ নজর কেড়েছে দর্শকদের। ব্যক্তিগত অভিনয়ে রঘুপতি, জয়সিংহ ও অপর্ণা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখেন।