সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠাৎ আবেগের ফল ছিল না। তাঁর কথায়, বিনোদের আধ্যাত্মিক ঝোঁক খুব অল্প বয়স থেকেই স্পষ্ট ছিল।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের স্বর্ণযুগে যখন একের পর এক হিট ছবি দিয়ে চলেছেন বিনোদ খান্না, ঠিক সেই সময়ই আচমকা বিনোদন দুনিয়া (Bollywood Career) ছেড়ে আধ্যাত্মিক জীবনের পথে পা বাড়ান তিনি। জনপ্রিয়তা, খ্যাতি ও বিপুল সাফল্যের মাঝেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত সে সময় বলিউডকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বহু মানুষের চোখে তখন তিনি ছিলেন অমিতাভ বচ্চনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। অথচ সেই উজ্জ্বল কেরিয়ার হঠাৎই থামিয়ে দিয়ে ওশোর সান্নিধ্যে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন বিনোদ খান্না (Vinod Khanna)।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠাৎ আবেগের ফল ছিল না। তাঁর কথায়, বিনোদের আধ্যাত্মিক ঝোঁক খুব অল্প বয়স থেকেই স্পষ্ট ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘অটোবায়োগ্রাফি অব আ যোগী’ বইটি পড়ার সময়ই তাঁর জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে। সেই সময়ই একই বইয়ের দোকানে উপস্থিত ছিলেন ওশো, যদিও তখন বিনোদ তা জানতেন না।
কবিতা জানান, জীবনের একাধিক ব্যক্তিগত আঘাতই বিনোদকে শেষ পর্যন্ত সব ছেড়ে দেওয়ার পথে ঠেলে দেয়। টানা দু’বছরের মধ্যে পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু, বিশেষ করে মায়ের প্রয়াণ তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। সেই শোক থেকেই তিনি ওশোর কাছে গিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ধীরে ধীরে বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া থেকে সরে আসেন।
ওশোর আশ্রমে বিনোদ খান্নার জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম। কবিতা জানান, ওরেগনে ওশোর ব্যক্তিগত বাসভবনে তিনি একজন মালী হিসেবে কাজ করতেন। খুব কম মানুষেরই সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল, আর সেই সেবাকেই বিনোদ নিজের সাধনার অংশ হিসেবে দেখতেন। শুধু তাই নয়, ওশোর পোশাক নকশার ক্ষেত্রেও এক অভিনব ভূমিকা পালন করেছিলেন অভিনেতা। ওশোর বিশেষ ঢিলেঢালা পোশাকগুলো প্রথমে পরিয়ে দেখা হত বিনোদকেই— কারণ দু’জনের কাঁধের গঠন প্রায় একরকম ছিল।
কবিতার কথায়, বিনোদের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ওশোর আশ্রমে যাওয়ার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। মুম্বইয়ে থাকাকালীনই তিনি অংশ নিয়েছিলেন চৌপাট্টি সৈকতে হওয়া ধ্যানচর্চায়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ধ্যানে বসতেন। তবে অভিনেতার স্ত্রী কবিতা স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিনোদের কোনও শারীরিক আকর্ষণ জড়িত ছিল না, তাঁর অনুসন্ধান ছিল শুধুই আধ্যাত্মিক।
পরবর্তীতে ভারতে ফিরে এসে বিনোদ খান্না আবার অভিনয়ে ফেরেন এবং দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ২০১৭ সালে তাঁর প্রয়াণ হলেও, তাঁর জীবনের এই অধ্যায় আজও বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আলোচিত সিদ্ধান্তগুলির অন্যতম হয়ে রয়ে গেছে।