বিদেশের মাটিতে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। আর তাতেই শুরু হয় একদল নেটিজেনের কটাক্ষবাণ। কেউ লিখলেন, “একটু রুচিশীল পোশাক পরুন দয়া করে।” কেউ আবার বললেন, “ওজনটা পারলে একটু কমিয়ে ফেলুন।”

শেষ আপডেট: 9 October 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়া আজ যেন এক অদ্ভুত যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে কে কাকে কুরুচিকর মন্তব্যে হারাতে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলে অবিরাম। বিশেষ করে আপনি যদি কোনও সেলিব্রিটি হন, তাহলে সেই তিরগুলো আরও বেশি করে এসে বিঁধে যায় আপনার দিকে। কিন্তু কেউ কেউ আছেন, যাঁরা এসবের পরোয়া না করেই নিজের মতো করে জীবন কাটাতে জানেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম রূপঙ্কর বাগচীর স্ত্রী চৈতালি লাহিড়ী।

এইসব মন্তব্য পড়ে অনেকেই হয়তো চুপ করে যেতেন। কিন্তু চৈতালি লাহিড়ী সেই মানুষ নন। বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। তাই এবারও থামলেন না। বিদেশের মাটিতেই নিজের মতো করে দিলেন মোক্ষম জবাব। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে লিখলেন—“আমি জানি আমি মোটা, কালো, মধ্যবয়সি মহিলা। কিন্তু তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মানসিক জটিলতা নেই। আমি জানি আমি স্মার্ট, মিশুকে, মোটামুটি শিক্ষিত। আমি বন্ধু পাতালে তার মনটা বোঝার চেষ্টা করি। মিললে তবে চলে, নচেৎ নয়। তাই আমি খুব খুশি। আমার বন্ধু, ভাই, বোন, দাদা, বৌদি, মাসি আমাকে জানে ও চেনে। তাই ওই পার থেকে তুমি বা তোমরা কে কী বললে ভারী বয়েই গেল। আমার যা খুশি তাই পরব, যে ভাবে ইচ্ছে চলব। তোদের কী রে... কবুতর যা যা যা।”
চৈতালির এই জবাব তির্যক নয়, মিষ্টিমুখই যেন ফুটে উঠল। জীবনের প্রতি তাঁর সহজ, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তর। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ভর্তি রঙিন মুহূর্তে— কখনও নিজে রান্না করা খাবারের ছবি, কখনও বিদেশের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর হাসিমাখা ফ্রেম। এইসব নিয়েও কম চর্চা হয় না। কিন্তু কে কী বলল, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। রূপঙ্কর বাগচী এখনো বিদেশে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। পাশে রয়েছেন তাঁর সাহসী সঙ্গী, চৈতালি। নেটদুনিয়ার নেতিবাচকতা তাঁকে ভাঙতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে। ট্রোলিং-এর জবাব দিয়েছেন হাসিতে, আত্মবিশ্বাসে আর একরাশ ভালোবাসায়।