
বোনদের সঙ্গে করিনা কাপুর।
শেষ আপডেট: 16 January 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সইফ আলি খানের উপর হামলার (Saif Ali Khan Knife Attack) ঠিক আগেই বুধবার রাতে করিনা পার্টি করছিলেন। দিদি করিশ্মা কাপুর এবং ঘনিষ্ঠ দুই বোন সোনম কাপুর ও রিয়া কাপুরের সঙ্গে ঘরোয়া ডিনার চলছিল তাঁদের। করিনা নিজেই তাঁদের ডিনারের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘গার্লস নাইট ইন’। এর কিছু পরেই আক্রান্ত হন সইফ।

বলিউড অভিনেতাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় লীলাবতী হাসপাতালে, অস্ত্রোপচার করে ছুরি বার করা হয়েছে তাঁর শরীর থেকে। আপাতত চলছে কসমেটিক সার্জারিও।
পুলিশ জানিয়েছে, সইফের সঙ্গে হামলাকারীর রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়, তার পরেই সে তাঁকে ছ’বার ছুরি মারে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা চ্যাঁচামেচি শুনে বেরিয়ে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। বান্দ্রা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনজন বাড়ির কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজনও আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
অভিনেতার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কোনও অস্ত্র ছাড়াই সইফ ডাকাতদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারকে রক্ষা করতে বেশিই দুঃসাহসী পদক্ষেপ করেন তিনি। তখনই হামলা করা হয় তাঁকে।
এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী করিনা কাপুর এবং সন্তানরা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে পরিবারের তরফে। সইফ ও করিনা দু’জনের টিম থেকে অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
করিনার টিম থেকে জানানো হয়, ‘গত রাতে সইফ আলি খান এবং করিনা কাপুরের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। সইফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। আমরা মিডিয়া এবং ভক্তদের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে কোনও ধরনের আগাম অনুমান এবং গুজব রটাবেন না এই ঘটনায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত করছে। আপনাদের উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ।’
সইফের টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মিস্টার সইফ আলি খানের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মিডিয়া এবং ভক্তদের কাছে অনুরোধ, দয়া করে ধৈর্য ধরুন। এটি একটি পুলিশি তদন্তের বিষয়।’
লীলাবতী হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার ডক্টর নীরজ উত্তমানি জানিয়েছেন, সইফের শরীরে ছ’টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দু’টি গভীর। এর একটি আঘাত শিরদাঁড়ার কাছে ছিল। তাঁকে ভোর রাত ৩:৩০ নাগাদ হাসপাতালে আনা হয়। অস্ত্রোপচারের পরে আপাতত তিনি বিপন্মুক্ত।
মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই সইফের বাড়ির এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই হামলার পিছনে একজনই রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সইফ এবং করিনা সম্প্রতি তাঁদের সন্তান জেহ এবং তৈমুরকে নিয়ে নিউ ইয়ার উপলক্ষে উদযাপনের জন্য সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিলেন। তাঁরা মাত্র এক সপ্তাহ আগে মুম্বইতে ফিরে এসেছেন। তার পরেই ঘটে গেল এই ভয়ঙ্কর ঘটনা।