ছবির কাটছাঁটের নির্দেশ দিতে পারে কেন্দ্র? ‘উদয়পুর ফাইলস’ বিতর্কে দিল্লি হাইকোর্ট জানাল, আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

'উদয়পুর ফাইলস'
শেষ আপডেট: 1 August 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'উদয়পুর ফাইলস' সিনেমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে উত্তাল আদালত চত্বর। শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকারকে—ছবিটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ, আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিনেমার কিছু অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্র হয়তো নিজেই আইনসীমা লঙ্ঘন করেছে।
২০২২ সালে উদয়পুরে দর্জি কানহাইয়া লালকে হত্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই চলচ্চিত্র। শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকার ছবিটি মুক্তির জন্য শর্তসাপেক্ষে ছয়টি দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু আদালত এবার প্রশ্ন তুলেছে—এই 'কাটসাজেস্ট' করার ক্ষমতা সরকারের কোথা থেকে এল? সিনেমা ছাঁটাইয়ের কাজ তো ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ডের!
আদালতের প্রশ্ন: কেন্দ্র কি নিজেই 'সেন্সর বোর্ড'?
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র ধারা ৫(২)-এর অধীনে সাধারণ নীতিমালা জারি করতে পারে অথবা ধারা ৬(২)-এর অধীনে কোনও ছবি সার্টিফিকেশনের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। এর বাইরে কেন্দ্রের হাতে আর কোনও কর্তৃত্ব নেই।
বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি তুষার রাও গেডার ডিভিশন বেঞ্চ সরকারকে প্রশ্ন করে, “আপনারা কাকে কী সংলাপ বাদ দিতে বলছেন, কোথা থেকে এল এই ক্ষমতা? আপনারা কী করে কোনও ছবি কাটার সুপারিশ করতে পারেন? এই ক্ষমতা কি কোথাও আইনে লেখা আছে?”
আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র
আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে শুক্রবার আদালতেই কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটার জেনারেল (ASG) জানান, তারা আগের নির্দেশ (ছয়টি দৃশ্য বাদ দেওয়ার প্রস্তাব) প্রত্যাহার করছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধুমাত্র ফরম্যাট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে নির্দেশ প্রত্যাহার করছি।”
সরকার জানায়, নতুন করে এই বিষয়ে ভাববে তারা। আর সেই কারণেই আদালত নির্দেশ দিয়েছে—৬ অগস্টের মধ্যে পুনর্বিবেচনার কাজ শেষ করতে হবে। আদালত আরও বলেছে, ৪ অগস্টের মধ্যে সব পক্ষকে তাঁদের মতামত জমা দিতে হবে। যেন ছবিটির ৮ অগস্টের নির্ধারিত মুক্তির আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সরকারের আগের নির্দেশে ছয়টি দৃশ্য বাদ দেওয়া, কিছু সংলাপ বদলানো, ডিসক্লেমারে শব্দ পরিবর্তন করার প্রস্তাব ছিল। এই বিষয়ে এক অভিযুক্তের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার তো নিজেই সিনেমার পরিচালক হয়ে উঠেছে! সংলাপ কেটে দাও, ডিসক্লেমারে এটা লেখো, ওটা লেখো—এইসব নির্দেশ তারা দিতে পারে না। তারা ফিল্ম বোর্ড নয়।”