তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পরই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় শ্রদ্ধা ও আবেগে। অনেক সংস্থা, বহু দিগ্গজ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। তাঁকে সম্মান জানিয়েছে আমূল, যার সঙ্গে পীযূষ পাণ্ডের দীর্ঘ সৃজনশীল সম্পর্ক ছিল।

পীযূষ পাণ্ডে
শেষ আপডেট: 25 October 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিজ্ঞাপন জগতের এক যুগের অবসান হয়েছে শুক্রবার। ৭০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন দেশের বিজ্ঞাপন জগতের কিংবদন্তি পীযূষ পাণ্ডে (Piyush Pandey)। আবেগ, রসিকতা আর দেশজ স্বাদে মেশানো তাঁর অনন্য বিজ্ঞাপনশৈলী বদলে দিয়েছিল ভারতীয় বিপণন ভাবনাকে।
তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পরই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় শ্রদ্ধা ও আবেগে। অনেক সংস্থা, বহু দিগ্গজ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। তাঁকে সম্মান জানিয়েছে আমূল (Amul), যার সঙ্গে পীযূষ পাণ্ডের দীর্ঘ সৃজনশীল সম্পর্ক ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল (Viral Post) হয়ে যায়। নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভরে ওঠে কমেন্ট সেকশন।
পীযুষ পাণ্ডে-র প্রথম জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। একসময় তিনি ক্রিকেটার, চা-পরীক্ষক (টি-টেস্টার) এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৮২ সালে ২৭ বছর বয়সে তিনি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থা ওগিলভি (Ogilvy)-তে যোগ দেন। তাঁর প্রথম দিকের কাজগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড সানলাইটের জন্য তৈরি করা বিজ্ঞাপন।
পীযুষ পাণ্ডের মস্তিষ্কপ্রসূত কিছু জনপ্রিয় ও কালজয়ী বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেন। ক্যাডবেরি: 'কুছ খাস হ্যায়', ফেভিকুইক ও ফেভিকল: 'তোড়ো নেহি জোড়ো', 'ফেভিকল সোফা', এশিয়ান পেন্টস: 'হর ঘর কুছ কেহতা হ্যায়', এয়ারটেল: 'হর এক ফ্রেন্ড জরুরি হোতা হ্যায়'।
এছাড়াও, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে পোলিও অভিযানের বিজ্ঞাপন এবং ২০১৪ সালে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহৃত জনপ্রিয় ট্যাগলাইন 'আবকি বার মোদি সরকার'-ও ছিল তাঁর ক্রিয়েটিভ আইডিয়া।
স্রষ্টার প্রতিভা শুধু বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৩ সালে তিনি জন আব্রাহাম অভিনীত 'মাদ্রাস ক্যাফে'তে অভিনয় করেন। এছাড়া ICICI ব্যাঙ্কের 'ম্যাজিক পেনসিল প্রজেক্ট' ভিডিওতে অংশ নেন। পাণ্ডে 'মিলে সুর মেরা তুমহারা' গানের কথাও লিখেছেন, যা ভারতের সংহতি ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। তিনি 'ভোপাল এক্সপ্রেস' ছবির চিত্রনাট্যেও সহলিখক ছিলেন।
ওগিলভি-র এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও গ্লোবাল চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার হিসেবে চার দশকের কর্মজীবনে পাণ্ডে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মরণীয় বিজ্ঞাপন। ২০১৮ সালে, বিজ্ঞাপনে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার ব্যবহারকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ, পীযুষ পাণ্ডে এবং তাঁর ভাই, পরিচালক প্রসূন পাণ্ডে, কান লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অফ ক্রিয়েটিভিটিতে মর্যাদাপূর্ণ লায়ন অফ সেন্ট মার্ক পুরস্কার অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় হন।
তাঁর সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে দেশে ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের ভাষা চিরতরে বদলে গিয়েছিল। তিনি বিজ্ঞাপনে ভারতীয়দের একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এনেছিলেন।