
শেষ আপডেট: 15 December 2023 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন কন্নড় অভিনেতা পুনীত রাজকুমার। জিম করতে গিয়ে শরীর খারাপ করে, তারপরেই হার্ট অ্যাটাক। পড়ে যান হঠাৎ। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, আইসিইউতেও ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। মাত্র ৪০ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় বলিউড অভিনেতা 'বিগ বস ১৩' বিজয়ী সিদ্ধার্থ শুক্লর। একের পর এক হার্ট অ্যাটাকে অকালমৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে হৃদরোগ এখন বয়স মেনে হচ্ছে না। ৩০ থেকে ৪০-এর কোঠায় যাদের বয়স, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। মাত্র ৪৭ বছর বয়সেই আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে অভিনেতা শ্রেয়স তালপাড়ের। মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
শ্যুটিং চলাকালীন হঠাৎই শরীর খারাপ করতে থাকে। স্ত্রী আর দেরি করেননি। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিয়ে যান। পথেই হার্ট অ্যাটাক হয়। এই মুহূর্তে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে শ্রেয়স তালপাড়ের। হয়েছে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিও। এখন তাঁর তিনি অনেকটা ভাল আছেন বলে জানা যাচ্ছে।
আগে মনে করা হত, বয়স্করাই বুঝি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিটা অন্য। হার্টের যে কোনও অসুখ হানা দিতে পারে যে কোনও বয়সে। মোদ্দা কথা, হৃদরোগ বয়স বাছবিছার করে আসে না। কোনও মানুষ যখন জন্মায়, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে তার হার্ট কাজ করতে শুরু করে। বলা ভাল, তারও আগে থেকে কাজ করতে শুরু করে। সেই যে শুরু, শরীরের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই অঙ্গের বিশ্রাম নেই। শরীরের অন্য সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই কোনও না কোনও সময় থামে, রেস্ট পায়, সে ঘুমের সময় হোক বা বিশ্রামের সময়। কিন্তু হার্টের ছুটি নেই। তাই এই নিরন্তর ছুটে চলা অঙ্গটিও ততটাই গুরুত্ব দাবি করে।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, গত কয়েক মাস বা কয়েক বছরের পরিসংখ্যাণ দেখলে বোঝা যাবে ৪০ বছর বা কমবয়সিদের মধ্যে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের প্রকোপ বেড়েছে। অনেকক্ষেত্রেই হার্টের অসুখ এমন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে বাঁচানোর সময়টাও পাওয়া যাচ্ছে না। এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইল, জীবনযাপনে অসংযম-অনিয়মই এর অন্যতম কারণ।
কোনও ভাবে যদি সাইনাস নোড ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে হৃদস্পন্দন তার স্বাভাবিক ছন্দ হারায়, কখনও বেড়ে যায় আবার কখনও কমে যায়। ডাক্তারি ভাষায় আমরা একে বলি অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। অনেক সময়েই এই অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন বুঝতে পারি না আমরা, তবে কিছু আগাম ইঙ্গিত দেয় হার্ট। যেমন বুক ধড়ফড় করতে পারে, মাথা ঘোরা বা ব্ল্যাক আউট হতে পারে রোগীর, ঘনঘন সোডিয়াম-পটাশিয়াম লেভেলে বদল হতে পারে। পরীক্ষা করালে দেখা যাবে হার্টবিট হয়তো প্রতি মিনিটে বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০-তে পৌঁছে গেছে। তখন সতর্ক হতে হবে।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আরও এক ধরনের কার্ডিওমায়োপ্যাথির নাম ‘হাইপারট্রফি’। অনেক সময়ে শোনা যায়, কমবয়সি মানুষ বা কোনও খেলোয়াড়, খেলতে গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেছেন। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, হয়তো মারাও গেছেন। এটার প্রধান কারণই হল হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি।
ডাক্তারি ভাষায় একটা কথা আছে, প্রাইমর্ডিয়াল প্রিভেনশন। মানে হল, রোগ যখন তৈরিই হয়নি, তখন থেকে সাবধান হওয়া। একটা পর্যায় থাকে যখন হার্টের রোগ ধরে যায়, তখন ডাক্তারবাবুরা বলেন কী খাবেন, কী খাবেন না, কেমন ভাবে থাকবেন ইত্যাদি। এর আগের পর্যায়টা হল প্রাইমারি প্রিভেনশন, যখন শরীরে লক্ষণ জানান দেয়নি তখন থেকে সাবধান হওয়া। এরও আগের পর্যায় হল প্রাইমর্ডিয়াল প্রিভেনশন। মানে একটা ছোট বাচ্চা যে ধূমপান করতে শেখেনি তাকে সেই সময় থেকে বোঝানো যে ধূমপান কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে। একদম ছোট থেকেই সাবধান করা। আর হার্টের অসুখ এমনভাবে বেড়েছে, বছরে অন্তত দুবার চেকআপ করানো খুবই জরুরি।