অস্ট্রেলিয়ার নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির লিস্টে মোট ২১ জন ক্রিকেটার। দেখলেই বোঝা যায়, বোর্ডের মূল ফোকাস এখন টেস্ট ক্রিকেট। সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ, তারপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড—ঠাসা লাল বলের সূচি।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
শেষ আপডেট: 1 April 2026 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ নয়, ধীরে ধীরে সরে যাওয়া—গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (Glenn Maxwell) ক্ষেত্রে ছবিটা ঠিক এমনই। এবার এই চর্চা যেন সরকারি সিলমোহর পেল। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড (Cricket Australia) ২০২৬-২৭ মরসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করতেই বড় চমক! নেই ম্যাক্সওয়েলের নাম। যে সিদ্ধান্তে জোরালো হয়ে উঠছে প্রশ্ন—এটা কি তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অন্তিম বাঁক? বিদায় স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায় আটকে?
ফোকাস বদলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির লিস্টে মোট ২১ জন ক্রিকেটার। দেখলেই বোঝা যায়, বোর্ডের মূল ফোকাস এখন টেস্ট ক্রিকেট। সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ, তারপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড—ঠাসা লাল বলের সূচি।
এই প্রেক্ষাপটে ম্যাক্সওয়েলের অনুপস্থিতি খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। এমনিতেও ২০১৭ সালের পর আর টেস্ট খেলেননি তিনি। ধীরে ধীরে লম্বা ফরম্যাট থেকে সরে গিয়েছেন। গত বছর ওয়ানডে (ODI) ক্রিকেট থেকেও নিয়েছেন অবসর। ফলে বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁর জায়গা এমনিতেই কমে আসছিল। এই চুক্তি তালিকা সেই সত্যটুকু স্পষ্ট করে দিল—অস্ট্রেলিয়া এখন নতুন প্রজন্ম আর টেস্ট-কেন্দ্রিক দল গড়তে উন্মুখ।
টি-২০-তেও নিশ্চিন্ত নন
ম্যাক্সওয়েলের শেষ ভরসা টি-২০ (T20 Cricket)। কিন্তু সেখানেও জায়গা নড়বড়ে। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। দলও গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে। পরের বিশ্বকাপ ২০২৮ সালে। অর্থাৎ, সামনে দীর্ঘ সময়। যেখানে নির্বাচকরা তরুণদের ঝালিয়ে নিতে চাইবেন। তাই ম্যাক্সওয়েলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে—তিনি দলে রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সিট নিশ্চিত নয়!
নতুন মুখ, নয়া বার্তা
এই চুক্তি তালিকায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা লুকিয়ে। যেমন, তরুণ ব্যাটার স্যাম কনস্টাস (Sam Konstas) বাদ পড়েছেন খারাপ ফর্মের জন্য। অন্যদিকে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন ব্রেন্ডন ডগেট (Brendan Doggett)। ফিরেছেন মাইকেল নেসার (Michael Neser), টড মারফি (Todd Murphy)। আবার চোটের জেরে ছিটকে গিয়েছেন রিচার্ডসন (Jhye Richardson), ল্যান্স মরিস (Lance Morris)।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—অস্ট্রেলিয়া দল এখন রূপান্তরের পথে। আর হয়তো এই পরিবর্তনের ঢেউতেই ভেসে যাচ্ছেন ম্যাক্সওয়েল। শেষ কথা এখনও বলা যাচ্ছে না। কিন্তু সংকেত পরিষ্কার—অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।