সমস্ত ঘটনাই আবারও সামনে এনেছে পুরনো প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড়রা কি কেবল খেলার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবেন? নাকি তাঁদের এমন প্রতীকী ইঙ্গিত ছড়িয়ে দেবে রাজনীতির আঁচ?

সাহিবজাদা ফারহান
শেষ আপডেট: 26 September 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) ভারত–পাকিস্তান সুপার ফোর ম্যাচে (September 21, Dubai) অর্ধশতরান সেরে উল্লাস দেখাতে বন্দুক চালানোর ভঙ্গি করেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে ঘনিয়ে ওঠে তুমুল বিতর্ক। ভারতীয় বোর্ড আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দেয় আইসিসি-তে (ICC)। শুক্রবার শুনানিতে হাজির হয়ে অবশ্য পাক ওপেনারের জবাব ছিল স্পষ্ট—এতে কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নেই। এটা নিছকই ‘সাংস্কৃতিক’ উদযাপন।
ফারহানের বক্তব্য, তিনি মোটেও রাজনীতি টানতে চাননি। শুনানিতে বলেন, ‘আমি পাঠান। আমাদের এলাকায় আনন্দ-উৎসবে এভাবেই মানুষ উচ্ছ্বাস দেখায়। বিয়েবাড়িতেও এমন ভঙ্গি দেখা যায়। ক্রিকেট মাঠে সেটাই করেছি!’ শুধু তাই নয়, নিজের সাফাইয়ে অতীতের উদাহরণও টেনে আনেন পাক ওপেনার। দাবি করেন, মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) আর বিরাট কোহলি (Virat Kohli) একাধিকবার একই ধরনের সেলিব্রেশনের সময় বন্দুক-ভঙ্গিমা দেখিয়েছেন।
যদিও কৈফিয়তের পরেও ভারতের অভিযোগ সহজে থামছে না। কারণটা এবারের আবহ। যা পুরোপুরি অন্য ধাঁচের। পহেলগামে (Pahalgam) সন্ত্রাসবাদী হামলা, তারপর ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)—সব মিলিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে। সেই প্রেক্ষিতে ফারহানের বন্দুক-উদযাপন অনেকের চোখে কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই ধরা পড়েছে।
ফারহান অবশ্য সমালোচনায় বিচলিত নন। বলেছেন, ‘আমি শুধু নিজের মতো করে আনন্দ করেছি। কে কীভাবে নেবে, সেটা তাঁদের ব্যাপার!’ অন্যদিকে, একই ম্যাচে হারিস রউফের (Haris Rauf) উসকানিমূলক ইশারাও আলোচনায়। উইকেট নিয়ে কখনও ‘৬-০’, কখনও যুদ্ধবিমানের পতন দেখানো—তাঁর ভঙ্গি নিয়ে বিসিসিআই (BCCI) অভিযোগ জানিয়েছে।
আর এই সমস্ত ঘটনাই আবারও সামনে এনেছে পুরনো প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড়রা কি কেবল খেলার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবেন? নাকি তাঁদের এমন প্রতীকী ইঙ্গিত ছড়িয়ে দেবে রাজনীতির আঁচ?