২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন বন্ধ থাকবে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের সব ব্যাঙ্ক। জরুরি ব্যাঙ্কিং কাজ থাকলে গ্রাহকদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 January 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ছুটি-এই শব্দটা শুনলে যেমন একদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে, তেমনই অন্যদিকে হালকা টেনশন। বিশেষ করে ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে। আর সেই টেনশনই এবার বাড়ছে কলকাতা (Kolkata)-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)। কারণ টানা চার দিন বন্ধ থাকতে চলেছে সমস্ত ব্যাঙ্ক (Bank)। রাষ্ট্রায়ত্ত (Public Sector Bank) হোক বা বেসরকারি (Private Bank)-কোনও ব্যাঙ্কই এই লম্বা ছুটির বাইরে নয়। ফলে শাখায় গিয়ে কোনও কাজ থাকলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের।
শুক্রবার থেকে সোমবার, একেবারে লম্বা উইকেন্ড। ২০২৬ সালের ২৩, ২৪, ২৫ এবং ২৬ জানুয়ারি-এই চার দিন ব্যাঙ্কের দরজা বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাঙ্ক ব্রাঞ্চে গিয়ে লেনদেন, নথি জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ বা অন্য কোনও পরিষেবা পাওয়া যাবে না। আবার ব্যাঙ্ক খুলবে মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি।
এই টানা ছুটির কারণও একাধিক। প্রথমেই ২৩ জানুয়ারি। সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। ২৪ জানুয়ারি পড়ছে মাসের চতুর্থ শনিবার (Fourth Saturday)। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। ফলে সেদিনও ব্যাঙ্কের শাটার নামানো থাকছে।
এর পর ২৫ জানুয়ারি রবিবার (Sunday)। স্বাভাবিকভাবেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ব্যাঙ্ক বন্ধ। আর ছুটির শেষ দিন ২৬ জানুয়ারি—প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day)। জাতীয় ছুটি (National Holiday)। ফলে সেদিনও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মিলবে না।
টানা চার দিনের এই ব্যাঙ্ক ছুটি সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলতে পারে, এমনই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে যাঁদের নগদ টাকা তোলা, জমা দেওয়া বা কোনও জরুরি কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজ রয়েছে। তবে আশার কথা, শাখা বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি অচল হয়ে যাচ্ছে না ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ক’দিন অনলাইন পরিষেবায় (Online Banking) কোনও সমস্যা হবে না। ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং (Internet Banking), মোবাইল ব্যাঙ্কিং (Mobile Banking) এবং ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ (Banking App) ব্যবহার করে টাকা পাঠানো, বিল মেটানো কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে। এটিএম (ATM) পরিষেবাও স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি ইউপিআই (UPI) অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা থাকবে না।
তবে যাঁদের ব্যাঙ্কের কাউন্টারে গিয়ে কাজ করতেই হবে, তাঁদের জন্য একটাই পরামর্শ—দেরি না করে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কাজ সেরে ফেলুন। নইলে অপেক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। টানা চার দিনের এই ব্যাঙ্ক ছুটি তাই একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে পরিকল্পনা না করলে বাড়তে পারে ঝঞ্ঝাট—দু’দিকই মাথায় রেখে চলাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের।