আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina News) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।

ইউনুস, হাসিনা ও মোদী
শেষ আপডেট: 17 November 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকায় ফেরত চেয়ে দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ল বাংলাদেশের (Bangladesh News) বিদেশমন্ত্রক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina News) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা। ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে নতুন অস্বস্তি।
বাংলাদেশের দাবি, দিল্লিতে আত্মগোপন করে থাকা হাসিনা (Sheikh Hasina Verdict) এখন ‘পলাতক দোষী’। দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি করা ভারতের “চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা”, এমনটাই উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের ভাষায়, “মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের অন্য কোনও দেশে আশ্রয় দেওয়া অত্যন্ত শত্রুসুলভ আচরণ।”
এর আগে দিনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিডি (ICT-BD) হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আলমামুনকে ছাত্র আন্দোলনের সময় নৃশংস দমন-পীড়নের নানাবিধ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। হাসিনার বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি অভিযোগ— উস্কানি, হত্যার নির্দেশ এবং নির্যাতন ঠেকাতে ব্যর্থতা।
কীভাবে দিল্লিতে এলেন হাসিনা
গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ। রাস্তায় নামে জনরোষ। ক্রমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরকার ভেঙে পড়ে। অগস্টেই ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। সেই সময় থেকেই তিনি ভারতে আত্মগোপন করে আছেন।
হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি দিল্লির এক গোপন সেফ হাউসেই রয়েছেন, যেখানে ভারত সরকার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে তাঁকে। হাসিনা নিজেও আগেই জানিয়েছিলেন, “ভারতের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তাঁরা আমাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন।”
বাংলাদেশ আদালত তাঁকে দেশে ফিরে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দিলেও তিনি অমান্য করেন।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিনা। দীর্ঘ বিবৃতিতে তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচনহীন সরকারের নিয়োজিত পক্ষপাতদুষ্ট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রাইব্যুনাল এই রায় দিয়েছে। আমাকে এবং আওয়ামী লিগকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা রয়েছে এর পিছনে।”
আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগেই এই দণ্ডাদেশ রাজনৈতিক অঙ্কে কতটা বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ঢাকার চিঠি দিল্লির হাতে পৌঁছনোর পর ভারতের পদক্ষেপ কী হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মহল। কারণ, হাসিনা শুধু বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নন, দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভও। তাঁর প্রত্যার্পণ বা প্রত্যাখ্যান, দুটো সিদ্ধান্তই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ঢেউ তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।