ভারতে AI-নির্ভর IVF চিকিৎসা শুরু। জানুন কীভাবে নতুন প্রযুক্তি বাড়াচ্ছে সাফল্যের হার ও কমাচ্ছে ঝুঁকি।

শেষ আপডেট: 3 April 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা (Infertility Treatment) মানে অনেকের কাছেই শুধু চিকিৎসা নয়, এক দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর মানসিক চাপের পথচলা। একের পর এক আইভিএফ সাইকেল (IVF Cycle), প্রত্যাশা আর ভাঙনের দোলাচলে ক্লান্ত হয়ে পড়েন বহু দম্পতি। সেই বাস্তবতায় এবার প্রযুক্তির নতুন দরজা খুলে দিল নতুন এক বেসরকারি আইভিএফ ক্লিনিক। দিল্লিতে Gaudium IVF and Women Health Limited নামের এই সংস্থার মূল হাতিয়ার হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI!
সম্প্রতি সংস্থাটি ভারতে AI-নির্ভর বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা চালু করেছে, যা IVF প্রক্রিয়ায় আরও নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াবে বলে দাবি। এই উদ্যোগের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনই ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি।
আইভিএফ বা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে সঠিক স্পার্ম নির্বাচন এবং সুস্থ ভ্রূণ বেছে নেওয়া। এখানেই AI প্রযুক্তি এনে দিয়েছে বড় পরিবর্তন।
এই উদ্যোগে ব্যবহৃত হচ্ছে দুটি উন্নত AI টুল—SiD (Sperm Identification Device) এবং ERICA (Embryo Ranking Intelligent Classification Assistant)। SiD মূলত স্পার্মের গতি ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে উপযুক্ত স্পার্ম চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ERICA ভ্রূণের ছবি বিশ্লেষণ করে ডেটার ভিত্তিতে তাদের গুণমান অনুযায়ী র্যাঙ্কিং তৈরি করে।
এই প্রযুক্তিগুলি সম্পূর্ণ নন-ইনভেসিভ, অর্থাৎ শরীরে কোনও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করে। ফলে চিকিৎসা আরও নিরাপদ ও নির্ভুল হয়।
এই AI সিস্টেমগুলি আনা হয়েছে IVF 2.0-এর সহযোগিতায়, যা প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এমব্রায়োলজিস্ট Jacques Cohen এবং Alejandro Chave। ফলে বিশ্বমানের এমব্রায়োলজি প্রযুক্তি এখন ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকদের মতে, IVF প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া—কোন স্পার্ম, কোন ভ্রূণ সবচেয়ে উপযুক্ত। AI এই সিদ্ধান্তকে আরও তথ্যভিত্তিক করে তুলছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনিকা খান্না জানান, এই প্রযুক্তি IVF চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে কমাতে পারে বারবার চিকিৎসার প্রয়োজন, যা রোগীদের মানসিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও দেখা গিয়েছে, AI ব্যবহারে নিষেকের হার এবং ভ্রূণের বিকাশের সম্ভাবনা উন্নত হচ্ছে।
ভারতে IVF চিকিৎসা ধীরে ধীরে আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। AI-র এই সংযোজন শুধু একটি নতুন পরিষেবা নয়, বরং চিকিৎসার ধরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত।
যেখানে একসময় অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হত, সেখানে এখন ডেটা ও অ্যালগরিদমও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা শুধু শারীরিক নয়, এটি গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে আবেগ, আশা আর হতাশার সঙ্গে। সেই জায়গায় যদি প্রযুক্তি এসে অনিশ্চয়তাকে কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন।